ফাইনালের টিকিট কাটতে মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। ২০০০ সালের পর থেকে আইসিসির কোনো সাদা বলের শিরোপা জিততে পারেনি—এমন দুই দল এবার আবারও ট্রফির স্বপ্নজয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।

আইসিসির বড় টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতার ইতিহাস অনেক পুরোনো। একাধিকবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের। অন্যদিকে গত দুই দশকে নিউজিল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে সেমিফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিলেও শিরোপা জেতা হয়নি কিউইদের।

দুই দলের শক্তি-সামর্থ্য বর্তমানে প্রায় সমান মনে হলেও এবার এগিয়ে রাখা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকাকেই। কারণ তারা পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে তারা হারিয়েছে। স্পিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তারা পেস ইউনিটকে নিজেদের মূল অস্ত্র বানিয়েছে।

অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে ২৬৮ রান করে অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মিডল ও লোয়ার অর্ডারে ডেভাল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস ও মার্কো ইয়ানসের উপস্থিতি দলকে শক্ত ভিত দিয়েছে।

বোলিংয়ে ইয়ানসেন, করবিন বশ, কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিডি সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় আছেন। তাদের গতি ও বৈচিত্র্য প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। স্পিন বিভাগ সামলাচ্ছেন কেশভ মহারাজ। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যেন নিখুঁত ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের পথচলা তুলনামূলক কঠিন ছিল। তারা আফগানিস্তান, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর সেমিফাইনালে উঠতে তাদের অন্য দলের ফলাফলের ওপর তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় তাদের শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে, যদিও সেটিও সহজ ছিল না।

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে গিয়ে তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কলকাতার সেমিফাইনালে তারা সম্ভবত স্পিন কমিয়ে পেস আক্রমণেই ভরসা রাখবে। ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্টের মতো আগ্রাসী ওপেনারদের কারণে তাদের টপ অর্ডার শক্তিশালী। দলে একাধিক অলরাউন্ডার থাকায় ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই সামঞ্জস্য রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা কখনো নিউজিল্যান্ডের কাছে হারেনি—পাঁচ দেখায় পাঁচ জয়ই তাদের নামের পাশে। তবে বিশ্বকাপের নকআউটে এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি সংস্করণে মুখোমুখি হচ্ছে তারা। যদিও ৫০ ওভারের আইসিসি ইভেন্টে নকআউটে নিউজিল্যান্ডই এগিয়ে।

দুই দলই দীর্ঘদিন ধরে ট্রফির খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এবারও তারা নতুন আশায় লড়বে। যে দলই জিতুক, ফাইনালে দ্বিতীয়বারের মতো জায়গা করে নেবে তাদের কেউ একজন। আগের আসরে ভারতকে হারাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা, আর ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এবার তাদের মূল লক্ষ্য—শিরোপা ঘরে তোলা।

Read Previous

ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

Read Next

ভূমি অফিসে এসে প্রতিমন্ত্রী দেখলেন তালাবদ্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular