নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ

 

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার আলোচনা শুরুর পর থেকে নতুন করে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে। আর এবার তার জবাবে নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করেছেন তিনি। শুধু নিজেরই নয়, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও তুলে ধরেছেন এনসিপির এ নেতা।

বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু এসব নিয়ে জল্পনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়া প্রয়োজন। যাতে এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, গতকাল আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেই, যাতে এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।

এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, আমার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে, উনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যেটা প্রতি মাসে উনার সেলারি থেকে কেটে নেয়া হয়। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং, যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দেই তাহলে এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এছাড়া আমার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে। আর আমার নিজের দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এরমধ্যে সোনালি ব্যাংকে আমার একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো আমার সেলারি অ্যাকাউন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় যাতায়াতসহ সরকারের অন্যান্য ভাতার লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হতো।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, আমি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। সেলারি গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন এই অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা আছে। সবমিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ সবকিছু মিলে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আমার দু’টি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।

Read Previous

রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ৩ সেনা কর্মকর্তা

Read Next

শ্রীলঙ্কার কাছে ইরানের জাহাজ ডুবে ৮০ জনের মৃত্যুর খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular