ফিলিং স্টেশন থেকে দিনে মিলবে কত লিটার তেল?

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। দেশেও সংকট তৈরি হতে পারে এমন শঙ্কায় অনেকেই ছুটছেন ফিলিং স্টেশনে, নিচ্ছেন অতিরিক্ত তেল। সার্বিক দিক বিবেচনায় ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসির নির্দেশনায় বলা হয়, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাবে।

ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নিতে পারবে।
এতে আরো বলা হয়, পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকের ক্ষেত্রে পরিমাণ হবে ২০০ থেকে ২২০ লিটার।

জ্বালানি তেল কেনার সময় রসিদ নিতে হবে এবং পরেরবার কেনার সময় সেই রসিদ দেখাতে হবে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনগুলোয় আজ শনিবারও (৮ মার্চ) যানবাহনের লম্বা সারি দেখা গেছে। অনেক জায়গায় তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকরা বলছেন, বিপিসি নির্ধারিত তেল দিয়ে সাধারণ গ্রাহকেরা চলতে পারবেন।

কিন্তু ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও গাড়ির ক্ষেত্রে এই পরিমাণ তেল দিয়ে চলা সম্ভব না।

ভাড়ায় চালিত তরুণ এক মোটরসাইকেল চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুই লিটার তেল দিয়ে তার মোটরসাইকেল ৭০ কিলোমিটারের মতো যায়। তদ্নেডিজে গড়ে ১৫০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালান। তা দিয়ে যে আয় হয়, সেটা দিয়ে সংসার চলে। তেল না দিলে চলবেন কিভাবে, সেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

এদিকে, রাজধানীর পরীবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার মতো কোনো কারণ নেই, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি।’

চলমান পরিস্থিতিতে লাভবান হওয়ার আশায় তেল মজুদ করে কৃত্রিমসংকট তৈরির চেষ্টা করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এরই মধ্যে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বাঁশঝাড়ের মধ্যে মাটির নিচে পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি লুকিয়ে রাখার দায়ে এক তেল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। রুবেল হোসেন নামের ওই জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীকে গতকাল শনিবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে অবৈধ তেল মজুদকালে হাতেনাতে ধরা পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজীকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। ফলে এ দুই ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসে ১৪টি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছেছে এবং কয়েকটি পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টির সরবরাহ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সরবরাহকারীরা।

আজ শনিবার (৮ মার্চ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন আগামীকাল সোমবার (৯ মার্চ) আরো দুটি জাহাজ আসছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি আগেও বলেছি, গতকালকেও বলেছি, আজকেও বলছি, তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রেশনিংটা করেছি এই জন্যই যে যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা আছে। সে জন্য আমরা একটা রেশনিং করেছিলাম। কিন্তু মানুষ এই রেশনিংটাকে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নাই।’

 

Read Previous

মহানবী (সা.)-এর প্রতি কাফিরদের নানান প্রলোভন ও প্রস্তাব

Read Next

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিষয় নয়, এটি স্বতঃস্ফূর্ত সংস্কৃতির ফল’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular