বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের একটি অস্বাভাবিক রান আউট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের মিডল-অর্ডার ব্যাটার সালমান আলী আঘা বলছেন, একই পরিস্থিতিতে তিনি থাকলে হয়তো অন্যভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। তখন বল করছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বল ঠেলে দেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। বলটি নন-স্ট্রাইকার প্রান্তের দিকে চলে গেলে আঘা ও মিরাজ দুজনেই সেটি ধরতে এগিয়ে যান।
এই সময় বল সংগ্রহ করতে গিয়ে দুজনের মধ্যে সামান্য জটলা তৈরি হয়। বলটি তুলতে গিয়ে আঘা তখনও ক্রিজের বাইরে ছিলেন। মিরাজ বলটি আগে তুলে দ্রুত আন্ডারআর্ম থ্রো করে স্টাম্প ভেঙে দেন।
বাংলাদেশের আপিলের পর অন-ফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ সিদ্ধান্তটি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠান। পরে তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা রিপ্লে দেখে নিশ্চিত করেন, স্টাম্প ভাঙার সময় আঘা ক্রিজের বাইরে ছিলেন। ফলে তাকে আউট ঘোষণা করা হয়।
এই আউটের মাধ্যমে ভেঙে যায় আঘা ও রিজওয়ানের ১০৯ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। ৬২ বলে ৬৪ রান করে বিদায় নেন আঘা। ম্যাচ শেষে এ প্রসঙ্গে আঘা বলেন, ‘ঘটনাটি সবাই দেখেছে। মুহূর্তের উত্তেজনা থেকেই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি হলে হয়তো ভিন্নভাবে করতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনের দিক থেকে এটা একেবারেই বৈধ। আমি সব সময় আইনের মধ্যেই খেলতে চাই। কিন্তু স্পোর্টসম্যানশিপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সে যদি মনে করে এটা ঠিক, তাহলে ঠিকই। তবে আমার দৃষ্টিতে আমি ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতাম।’
ঘটনার সময় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আঘা বলেন, বলটি তার প্যাড ও পিঠে লাগার পর তিনি ভেবেছিলেন এখানে আর রান নেয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। পাকিস্তানের এ ব্যাটার বলেন, ‘বলটা আমার প্যাডে লেগে পরে পিঠে লাগে। তাই মনে হয়েছিল আমি আউট হতে পারি না। আমি শুধু বলটা তাকে ফেরত দিতে চাচ্ছিলাম। কোনো রান নেয়ার চিন্তা ছিল না।’
মিরাজের সঙ্গে ওই সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়েছিল। তবে পরে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি আঘা। তিনি বলেন, ‘ঠিক কী বলেছি বা সে কী বলেছে মনে নেই। আমি নিশ্চিত ভালো কিছু বলিনি, সেও বলেনি। কিন্তু এটা মুহূর্তের উত্তেজনা ছিল। আমরা ঠিক আছি। এখনও তার সঙ্গে কথা হয়নি, তবে হয়ে যাবে।’
এদিকে আঘা দাবি করেন, পাকিস্তান দল ভবিষ্যতে এমনভাবে কাউকে আউট করার চেষ্টা করবে না। তিনি বলেন, ‘না, কখনো না। আমরা আগে এমন করিনি, ভবিষ্যতেও করব না।’
শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচটি ১২৮ রানে জেতে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফেরাতে বড় জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। সিরিজ নির্ধারণে রোববার (১৫ মার্চ) তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুদল।
