বিসিবি নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ৫ সদস্যের কমিটি প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, তারা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে সাড়া পাননি সাবেক ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবের।
অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে। ফলে একটি পক্ষ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। তারা এ ব্যাপারে তদন্ত দাবি করে। তদন্ত কমিটি আসিফের বক্তব্য শুনতে চেয়েছিল। কিন্তু আসিফ ডাকে সাড়া দেননি।
তদন্ত কমিটির প্রধান এ কে এম আসাদুজ্জামান আজ এনএসসিতে প্রতিবেদন জমা দিয়ে বলেন, ‘উনার বক্তব্য শোনার জন্য আমরা ডেকেছিলাম, উনি কিছু বলতে চান কি না। … উনাকে সময় দিয়ে ডাকা হয়েছিল, আসেননি।’
কিছুক্ষণ পরই আসিফ এক ফেসবুক পোস্টে সাড়া না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। চারটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে মন্ত্রণালয় তদন্ত করতে পারে না।
আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি: প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’
‘যখন আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকাদের বিষয়ে জানানো হলো, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে পারেন কি না জানতে চেয়ে কোন সদুত্তর পাইনি। কীভাবে সরকার চালাতে হয়, কীভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না। আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহির্ভূত আর আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হব না। এজন্যই বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দেইনি।’
