নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় এলাকায় মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের পূর্ব নির্ধারিত উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বিএনপির ১০-১৫ জনের একটি দল শিমরাইল এলাকায় মহাসড়কের পাশে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহড়া দিচ্ছিল। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতেই প্রতিপক্ষ আরেকটি দলের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া এবং হাতাহাতিও হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ উভয়পক্ষের লোকজনকে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে শিমরাইল মোড়ে মহাসড়কের দুপাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ হকার ও দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা ও মাহমুদুল হাসান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ তালুকদার সময় সংবাদকে বলেন, ‘এর সঙ্গে আমাদের উচ্ছেদ অভিযানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এলাকায় দুপক্ষের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাজ আমরা করেছি। আমাদের কাজে কেউ কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। আমরা অন্তত ৫০০ অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছি।’
এ ছাড়া অভিযানের আগেই অনেকে নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এ ছাড়া মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চলবে।
