ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের সময় ব্যাপক লড়াইয়ের পর ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির’ সম্ভাবনার কথা বলেছে ইরান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দাবি করছে, ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের এক মার্কিন বিমানচালককে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত অভিযানটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, অভিযানের ঘটনাপ্রবাহে ‘অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেখানে মার্কিন পাইলট থাকার কথা বলা হয়েছে এবং যেখানে মার্কিন বাহিনী অবতরণের চেষ্টা করেছে—এই দুটি স্থান এক নয়।
বাঘাই বলেন, ‘এটি যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির জন্য একটি প্রতারণামূলক অভিযান ছিল-এ সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করাও উচিত নয়।’
তিনি এই অভিযানকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে জিম্মি হওয়া ৫০ জনেরও বেশি মার্কিন নাগরিককে উদ্ধারের জন্য ১৯৮০ সালের একটি ব্যর্থ মার্কিন অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘একটি বিপর্যয়’ হয়ে দাঁড়ায়।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি প্রধান উত্তেজনার বিষয়। ওয়াশিংটনের সন্দেহ, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে, যদিও ইরান এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে।
গত শুক্রবার (২ এপ্রিল) ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। সেটিতে দুজন ক্রু ছিলেন। একজন পাইলট, অন্যজন অস্ত্রব্যবস্থা–সংক্রান্ত কর্মকর্তা। যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার আগেই তারা দুজন ককপিট থেকে বেরিয়ে (ইজেক্ট) যেতে সক্ষম হন।
শুক্রবারই পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও অস্ত্রব্যবস্থা-সংক্রান্ত কর্মকর্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-উভয়ই দ্বিতীয় বিমানসেনাকে মরিয়া হয়ে খুঁজতে থাকে। ইরান ওই মার্কিন সেনার খোঁজ দিতে অর্থপুরস্কার ঘোষণা করে। রোববার (৬ এপ্রিল) ট্রাম্প অভিযান চালিয়ে ইরানে নিখোঁজ অস্ত্র কর্মকর্তাকে উদ্ধারের কথা জানান।
