বাগমারার বাবু হত্যা মামলায় খালাস পেলেন সব আসামি

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাঞ্চল্যকর মনোয়ার হোসেন বাবু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘোষণা করা এ রায়ে মামলার সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামসুল আল্-আমীন এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলাটিতে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি আসামি ছিলেন। আসামিদের তালিকায় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রয়াত সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফা।

এছাড়া জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল এমন কয়েকজনের নামও ছিল মামলার অভিযোগপত্রে। এদের মধ্যে ছিলেন জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড বাগমারার মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে কিলার মোস্তাক, জেএমবির দুর্ধর্ষ ক্যাডার মাহাতাব খামারু ও আবদুল মতিন ওরফে বোমারু মতিন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সর্বহারা নিধনের নামে ৩০ বছর বয়সী যুবক মনোয়ার হোসেন বাবুকে বাগমারার একটি মাঠ থেকে তাড়া করে ধরে পলাশি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আসামিরা ‘বাংলা ভাই জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে হামিরকুৎসা গ্রামে অবস্থিত জেএমবির ক্যাম্পের দিকে চলে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মহসিন আলী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের পেশকার মো. সাহাবুদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। বিচারাধীন অবস্থায় ছয়জন আসামি মারা যান। অবশিষ্ট ৪৪ জনের মধ্যে ১২ জন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং ৩২ জন নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৩০ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। তবে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও শাহাদ আলী নামের একজন আসামি অনুপস্থিত ছিলেন। রায়ে আদালত সব আসামিকে খালাস দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রাজশাহী জেলা জজ আদালতের রইসুল ইসলাম জানান, মামলাটিতে প্রথমে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল। পরবর্তীতে ওয়ান-ইলেভেন সময়কালে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাসহ অন্যান্যদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিএনপি নেতাদের আসামি করা হয়েছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

তিনি বলেন, মামলাটিতে মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো সাক্ষীই আসামিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন, যা সঠিক রায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Read Previous

ক্রু উদ্ধারের আড়ালে ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির’ সন্দেহ প্রকাশ ইরানের

Read Next

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular