ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া

প্রায় পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে ইসলামাবাদে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া

চীন
চীন বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত থামাতে একটি সমঝোতা তৈরিতে নিজেদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে দেশটি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রাসঙ্গিক পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে—চীন এটিকে স্বাগত জানায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীন যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা বারবার জানিয়েছি।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ২৬টি ফোনালাপ করেছেন, আর বেইজিংয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে ‘শাটল কূটনীতি’ চালিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বেইজিং ‘পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে’ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

রাশিয়া
রাশিয়া বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘একপাক্ষিক, আক্রমণাত্মক ও উসকানিহীন হামলার’ যে কৌশল নেয়া হয়েছিল, ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর তা ‘চরমভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল—আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, আরও আগ্রাসী হওয়া, সামাজিক মাধ্যমে বেশি লিখে ‘বিজয়’ একেবারে কাছেই—এসব অবস্থান আবারও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একইভাবে এমন একপাক্ষিক, আক্রমণাত্মক ও উসকানিহীন হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, ‘গত রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, আমি সেটিকে স্বাগত জানাই। এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উত্তেজনা হ্রাসে সহায়তা করবে।’

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, তিনি ‘সব পক্ষকে এর শর্তগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।’ ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস এই চুক্তিকে ‘কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর এক ধাপ পিছিয়ে আসা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

স্পেন
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ‘যারা বিশ্বকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়, তারা যদি পরে এক বালতি পানি নিয়ে আসে, শুধু সে কারণেই তাদের প্রশংসা করা যায় না।’ তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি সবসময়ই স্বাগত, তবে ‘সাময়িক স্বস্তি আমাদের যেন বিশৃঙ্খলা, ধ্বংস এবং হারানো জীবনের কথা ভুলিয়ে না দেয়।’

ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ‘এই সংঘাত ইতোমধ্যেই মানুষের ওপর ব্যাপক দুর্ভোগ ডেকে এনেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নেটওয়ার্কে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।’ তারা আরও বলেছে, ‘আমরা আশা করি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাধাহীন নৌ-চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে।’

ফ্রান্স
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুদ্ধবিরতিকে ‘খুবই ভালো একটি বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ বুধবার জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে এটি পুরো অঞ্চলে সম্পূর্ণভাবে মেনে চলা হবে এবং এর মাধ্যমে আলোচনার পথ তৈরি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা হলো, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় যেন লেবাননও অন্তর্ভুক্ত হয়।’

ইরাক
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকতে হবে।

মিশর
মিশর বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এবং সামরিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা উচিত।

ইসরাইল
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসরাইলি বাহিনী দেশটিতে স্থল অভিযান চালাচ্ছে।

ওমান
ওমান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, সংকটের স্থায়ী সমাধানে এখন আরও প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যানোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি স্থায়ী ও বিস্তৃত শান্তির পথ তৈরি হয়।

জাপান
জাপান এই যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তির আশা প্রকাশ করেছে।

ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়া উভয় পক্ষকে সার্বভৌমত্ব ও কূটনীতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়া বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ এবং সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া সতর্ক করেছে যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং মানবিক ক্ষতি বাড়াবে।

নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড বলেছে, এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আরও কাজ বাকি রয়েছে।

জার্মানি
জার্মানি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

ইউক্রেন
ইউক্রেন এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, একই ধরনের দৃঢ় পদক্ষেপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতেও প্রয়োজন।

Read Previous

গ্যাস্ট্রিক বাড়লে কী কাঁচামরিচ খাওয়া যায়?

Read Next

২০৩০ বিশ্বকাপেও আনচেলত্তির অধীনেই খেলবে ব্রাজিল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular