চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের মাঝে হাম রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন কর্নারে ৬৯ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ভর্তি থাকা ৬৯ জন শিশুর মধ্যে ৩৫ জন ছেলে ও ৩৪ জন মেয়ে। তারা হাসপাতালের হাম আইসোলেশন কর্নারে চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা হাসপাতালের এই আইসোলেশন কর্নার থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৮ জন শিশু।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৫১৯ জন। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৭৩ জন শিশু। এর মধ্যে ৩৮ জন নতুন করে ভর্তি হয় এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নেয় ২৭ জন। তার আগের দিন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভর্তি ছিল ৬৪ জন। এদিন নতুন করে ভর্তি হয় ২২ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে ২১ জন। এছাড়া রোববার (৫ এপ্রিল) ভর্তি হয় ২৮ জন ও ছাড়পত্র নেয় ২৩ জন। শনিবার (৪ এপ্রিল) ১৫ জন ভর্তি হয়ে সুস্থ হয় ৬ জন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নতুন ভর্তি হয় ১২ জন এবং ছাড়পত্র নেয় ২৪ জন।
এর আগের দুই দিন হাসপাতালে হাম রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছিল। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ১৭ জন ভর্তি হয় এবং ২৩ জন ছাড়পত্র নেয়। আর বুধবার (১ এপ্রিল) ২৭ জন ভর্তি হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছিল ৩৫ জন।।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে আমরা হাসপাতালের পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছি। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স সংকটের মাঝেও বিকল্প উপায়ে লোকবল নিয়োগ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। এছাড়া হাসপাতালটিতে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে।’
