যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের পর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে

ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনায় সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি কার্গো জাহাজ আটক করায় এই যুদ্ধবিরতি হয়ত ‍টিকবে না।

রোববার ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটি আটকের পর ইরান এরইমধ্যে জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু করার আশা করেছিল, তাতে তারা অংশ নেবে না।

মার্কিন সামরিক বাহিনী রোববার জানায়, ইরানের বন্দর আব্বাস বন্দরের দিকে এগিয়ে আসা একটি ইরানি পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজে তারা গুলি চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘জাহাজটি এখন আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং আমরা দেখছি জাহাজে কী আছে।’

সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর থেকে নিজস্ব অবরোধ তুলে নেয়ার পর আবার তা আরোপ করেছে। এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করা হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ইরানের ওই পণ্যবাহী জাহাজটিকে তারা আটক করেছে। ইরানও এর প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুসারে, একজন সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা সতর্ক করছি যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সশস্ত্র দস্যুতার বিরুদ্ধে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত জবাব দেবে এবং প্রতিশোধ নেবে।’

ইরান শান্তি আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেছে

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজে চলমান অবরোধ, হুমকিমূলক বক্তব্য এবং ওয়াশিংটনের পরিবর্তনশীল অবস্থান ও ‘অতিরিক্ত দাবির’ কথা উল্লেখ করে তেহরান নতুন শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদরেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘অন্যদের জন্য অবাধ নিরাপত্তা আশা করে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করা যায় না। পছন্দটি স্পষ্ট: হয় সকলের জন্য একটি অবাধ তেলের বাজার, অথবা সকলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি।’

এর আগে ট্রাম্প, ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, তেহরান তার শর্ত প্রত্যাখ্যান করলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবে। এর মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকবার এমন হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে, ট্রাম্প বলেছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার একদিন আগে, সোমবার সন্ধ্যায় তার প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। সেখানে দ্বিতীয় দফা আলোচনার বিষয়ে সব চূড়ান্ত হবে।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি এক সপ্তাহ আগে প্রথম শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রতিনিধিদলে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারও থাকবেন। কিন্তু ট্রাম্প এবিসি নিউজ এবং এমএস নাউকে বলেছেন যে ভ্যান্স যাচ্ছেন না।

যদিও প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তান আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। দুটি পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের আসাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও যানবাহন নিয়ে দুটি বিশাল মার্কিন সি-১৭ কার্গো বিমান রোববার বিকেলে একটি বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে আলোচক পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হুমকির মুখে পড়েছে।

Read Previous

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

Read Next

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো যেন পরিবর্তন না হয়, প্রত্যাশা হাইকোর্টের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular