খনিজ উপাদান আয়রন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন তৈরিতে অপরিহার্য। এটি পুরো শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে ক্লান্তি কমায় এবং শক্তি বাড়ায়। কিন্তু শরীরে এর ঘাটতি থাকলে নানা সমস্যা স্পষ্ট হতে শুরু করে। তাই এ উপাদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য জানা জরুরি।
চিকিৎসা শাস্ত্র বলছে, আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। এ হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। এটি শরীরের পেশীতে অক্সিজেন জমা রাখে এবং পরবর্তীতে কোষের জন্য নির্ধারিত কার্যক্রম গতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
বাড়ন্ত শিশুর স্নায়ুবিক ও মানসিক বিকাশের জন্যও আয়রন জরুরি। শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় আয়রন কম থাকলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রোগ দেখা দেয়। আয়রনের ঘাটতির ফলে মূলত যে রোগগুলো হয় তার মধ্যে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া প্রধান। আয়রনের অভাবজনিত কারণে যে রক্তশূন্যতা হয় তাকে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া বলা হয়।
আয়রনের অভাবের লক্ষণ
খুব স্বল্প পরিমাণ আয়রনের অভাবেও শরীরে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা না হওয়া পর্যন্ত লক্ষণ প্রকাশ পায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয়রন ঘাটতিতে যে লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে তা হলো-
১। ক্লান্তি, অবসাদ ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়।
২। স্বল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠে।
৩। হাত পা বেশিরভাগ সময় ঠান্ডা থাকে।
৪। শরীরের চামড়া ফ্যাকাসে, চুলকানি ও র্যাশ।
৫। বুকে ব্যথা, ঘন ঘন শ্বাস ফেলা বা হার্টবিট দ্রুত হয়ে যায়।
৬। জিহ্বায় ঘা দেখা দেয়।
৭। হাত ও পায়ের নখ ভঙ্গুর হয়ে যায়।
৮। মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরা।
৯। শ্বাসকষ্ট, চোখের নিচে কালি।
১০। চুল রুক্ষ হয়ে অতিরিক্ত ঝরে পড়া।
আয়রন সমৃদ্ধ খাবার তালিকা
শরীরে আয়রন ঘাটতির লক্ষণ স্পষ্ট হলে খেতে হবে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। যেসব খাবারে আয়রন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে সেগুলো হলো-
১. প্রাণিজ উৎস (সহজ শোষনযোগ্য): কলিজা (গরু বা খাসি), লাল মাংস (গরু বা খাসি), হাঁস-মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ ও ডিম।
২. উদ্ভিজ্জ উৎস: পালংশাক, কচু শাক ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজি, ব্রোকলি, ডাল (মসুর, ছোলা), কিডনি বিন (এক ধরনের পুষ্টিকর শিমের বীজ বা রাজমা)।
৩. ফল ও বাদাম: কিশমিশ, খেজুর, ডালিম, এপ্রিকট, কুমড়োর বীজ, কাজুবাদাম।
৪. অন্যান্য: আয়রন-ফোর্টিফাইড সিরিয়াল ও পাউরুটি।
মনে রাখবেন, আয়রন শরীরের ভালোভাবে শোষণের জন্য ভিটামিন সি যুক্ত খাবার (যেমন- লেবু, আমলকী, কমলা) আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে খাওয়া উচিত। পাশাপাশি আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার সময় ফাইটেইটযুক্ত খাবার যেমন ওটস, বার্লি, চা-কফি, কোকা, ক্যালসিয়াম ও সয়া প্রোটিন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এ ধরনের খাবার শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দেয়।
