ন্যায়বিচার মানবিক রাষ্ট্রের ভিত্তি-এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থের অভাবে কেউ যাতে বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত না থাকেন, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার।
এসময়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বিনা বিচারে কারাগারে থাকার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
দেশে কারাগারে বন্দি থাকা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই জানেন না কি কারণে জেলে আছেন তারা। অর্থের অভাবে থাকা এসব মানুষের আইনি অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতে ১৯৯৪ সালে সরকারিভবে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যার মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন বিচারকরা।
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের আলোচনায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোনেন আইনগত সহায়তায় সুবিধাপ্রাপ্ত, জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কথা।
এরপর ন্যায়বিচার পাওয়া মানবিক রাষ্ট্রের মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
অর্থের অভাবে যেন অ্যাকসেস টু জাস্টিস থেকে কেউ বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের সেরা কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খানের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে আইন ও বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশের অসহায় ও অসচ্ছল মানুষদের বিনামূল্যে আইনি সেবা দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা’র কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
