যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি ব্যবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে রয়টার্স। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে আলাদা আলাদা চাপ প্রয়োগ করে ভোট ব্যবস্থার ওপর নজরদারির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করা হয়। ভোটার তথ্য, ভোটিং মেশিন ও রেকর্ডে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও মিলেছে। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে অঙ্গরাজ্য বনাম কেন্দ্রে আরও তীব্র হচ্ছে টানাপোড়েন।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্তত ৮টি অঙ্গরাজ্যে তদন্ত, তল্লাশি এবং ভোটার তথ্য ও ভোটিং সিস্টেমে প্রবেশাধিকারের দাবি জানানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংস্থা পরিচয়ে ভোটার রেকর্ড সংগ্রহের অনুরোধও করা হয়।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি বড় উদাহরণে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তা ভোটার তালিকা, ভোটিং ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে কয়েকটি কাউন্টি থেকে তথ্য সংগ্রহও করা হয়।
একই ধরনের অনুরোধের মাধ্যমে অন্তত ছয়টি কাউন্টিতে ভোটার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে। যেখানে সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কলোরাডো এবং মিসৌরিতে ভোটিং মেশিনে প্রবেশাধিকারের চেষ্টা এবং নির্বাচনী নথি যাচাইয়ের ঘটনাও সামনে আসে। কিছু ক্ষেত্রে ডোমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমের মেশিনে অ্যাকসেস চাওয়া হয়, যা স্থানীয় কর্মকর্তারা আইনগত কারণে প্রত্যাখ্যান করেন।
একই সময়ে বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন ইউনিট ভোটার রোল যাচাই ও তদন্ত বাড়ায়।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সাংবিধানিক ক্ষমতার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ভোটার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ এন্ট্রি ও অননুমোদিত ভোটার চিহ্নিত করা। তাই আসন্ন নির্বাচনের আগে মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
