রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে মেহেদি হাসান নামে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। নিজেকে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘এটিএন বাংলা’র সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি এই হুমকি দেন।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে এটিএন বাংলার ‘সংবাদকর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তানোরের ইউএনওকে (+8801935130055 নম্বর থেকে) ফোন করেন। তিনি দাবি করেন যে, ইউএনওর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে রয়েছে। যদি এই সংবাদ প্রচার বন্ধ করতে হয়, তবে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হবে। অন্যথায় এটিএন বাংলায় নেতিবাচক নিউজ প্রচার করে তাকে হেনস্তা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে, কিন্তু সাংবাদিকতার আড়ালে এমন চাঁদাবাজি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও জানান, কোনো প্রকার অনিয়ম না থাকা সত্ত্বেও কেবল হয়রানি ও অনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে এই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এটিএন বাংলার প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, মেহেদি হাসান নামে এবং উক্ত মোবাইল নম্বরধারী কোনো ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানে নেই। এটিএন বাংলার মতো একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী চ্যানেলকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কুচক্রী মহল এমন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত মেহেদি হাসানের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য জানতে চেয়ে মেসেজ পাঠানো হলে তিনি উল্টো তার সঙ্গে যোগাযোগকারী সাংবাদিকের চাকরি খাওয়ার হুমকি দেন।
