নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাত্র ১০ টাকা চাঁদা না দেয়ায় লাইনম্যানের হামলায় আহত অটোরিকশা চালক মো. মমিনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানীর একটি হাসপাতালে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার (২০ মে) সকালে তার মৃত্যু হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মমিনের লাশ বাড়িতে আনা হয়।
নিহত অটোরিকশা চালক মো. মমিন উপজেলার নাজিরপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশা চালক মমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও অটোরিকশা চালকরা এর বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কের উভয়পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে গত রোববার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে লাইনম্যান শাহিন অটোরিকশা চালক মমিনের কাছ থেকে ১০ টাকা চাঁদা নেয়ার কিছুক্ষণ পর আবারও চাঁদা দাবি করেন। এসময় মমিন পুনরায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে লাইনম্যান শাহিন লাঠি দিয়ে অটোরিকশা চালক মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করলে গুরুতর আহত হয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে অন্যান্য চালকদের সহযোগিতায় স্থানীয়রা আহত মমিনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চাঁদাবাজ শাহিন পলাতক রয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একটি চক্র প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে আসছে। প্রতিদিন অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার সময় সংবাদকে বলেন, ১৭ তারিখ ঘটনার পিরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। ঘটনার পর থেকে আসামি লাইনম্যান শাহিন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে থানা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।
ওসি আরও বলেন, সকালে নিহত অটোচালকের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে এলাকায় আনা হলে অটোরিকশা চালকরা অল্প কিছু সময় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে আমি থানা পুলিশের ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে তারা রাস্তা থেকে সরে যায়। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
