বর্ধিত ১৫ ওয়ার্ডে নেই সিসিটিভি, চুরি-ছিনতাই বাড়ায় নিরাপত্তাহীনতায় সিলেট নগরবাসী

নগরীর আয়তন প্রায় তিনগুণ বাড়লেও সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ডে এখনও স্থাপন করা হয়নি সিসিটিভি ক্যামেরা। ফলে এসব এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, শহরের অধিকাংশ নিরাপত্তা ক্যামেরা পুরোনো হয়ে যাওয়ায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল।

সিলেট নগরীতে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে ছিনতাইকারীরা। দিনের আলোতেও ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত নয় মাসে নগরী থেকে প্রায় সাড়ে ৩৫০ জন ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় অন্তত ২০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি চুরি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শতাধিক ঘটনাও ঘটেছে।

নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে ২০১৯ সালে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে ১০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে ১০টি ক্যামেরা অচল হয়ে রয়েছে। বাকিগুলোও সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, যেসব এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেখানে অপরাধের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। আবার অনেক ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও অ্যাডাপ্টার নষ্টসহ বিভিন্ন কারণে সেগুলো কার্যকরভাবে কাজ করছে না।

সাত বছর আগে স্থাপন করা এসব ক্যামেরা দিয়ে বর্তমান সময়ের অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে অনেক উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরা এসেছে। পুরোনো ক্যামেরাগুলো পরিবর্তন করে নতুন প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

২০২১ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড সংখ্যা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৪২ করা হয়। একই সঙ্গে নগরীর আয়তন সাড়ে ২৬ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৭৯ বর্গকিলোমিটারে। তবে সম্প্রসারিত ১৫টি ওয়ার্ড এখনও সিসিটিভি নজরদারির বাইরে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত নতুন ক্যামেরা স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর। কোনো চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। তারপরও এমন ঘটনা কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক নয়।

এদিকে নগরীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে উচ্চ প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ফেসিয়াল রিকগনিশন সক্ষম এআইভিত্তিক ক্যামেরা সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব এলাকায় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব ক্যামেরা পরিচালনা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে অপরাধী শনাক্তকরণ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্তের মাধ্যমে নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

Read Previous

সন্ধ্যার মধ্যে ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

Read Next

রৌমারী সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনচেষ্টা ঠেকাল বিজিবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular