আলু এক প্রকার সবজি হলেও এটি রূপচর্চায় দারুণ কার্যকরী। এতে রয়েছে ত্বকের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, খনিজ, ফসফরাসের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। যে কারণে ত্বকের নানা সমস্যার সমাধানে এটি কাজ করে ম্যাজিকের মতো।
রূপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলুর রস ত্বকে যে সুরক্ষা কবচগুলো তৈরি করতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো। এছাড়া দুশ্চিন্তা বা অনিদ্রায় চোখের নিচে যে ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগ তৈরি হয় তা নিমিষেই দূর করতে পারে আলুর রস।
আসুন এক নজরে জেনে নিই, রূপচর্চায় আলুর রসের ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ৫ উপকারিতা সম্পর্কে-
১। আলুর স্টার্চ ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা শুষে নিয়ে ত্বককে সতেজ ও পরিষ্কার রাখে।
২। নিয়মিত রূপচর্চায় আলু রসের ব্যবহার ত্বকে কোনোভাবেই রিঙ্কেল বা বলিরেখা পরতে দেয় না।
৩। অনেকে গায়ের রং ফর্সা করার জন্য ব্লিচ ব্যবহার করে থাকেন। এর কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক মারাত্মক। তাই সরাসরি ত্বকে ব্লিচ ব্যবহার না করে আপনি কিন্তু আলুর রসকে ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক ব্লিচ।
৪। ত্বকের কালো দাগও দূর করতে পারে আলুর রস। এটি নিয়মিত ব্যবহারে ধীরে ধীরে মলিন হতে শুরু করে ত্বকে থাকা দীর্ঘদিনের টোন বা রোদে পোড়াভাব।
৫। পরিষ্কার ত্বকে আলুর রস দিয়ে ত্বক ম্যাসাজ করলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে এবং ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস ১০-১২ দিনের মধ্যে দূর হয়।
যেভাবে ব্যবহার করবেন
রূপচর্চায় আলুকে ব্যবহার করতে প্রথমে আলু থেকে রস বের করে নিতে হবে। আলু থেকে রস বের করতে আলু কুচিয়ে তাতে চাপ দিন।
এবার আপনার যদি ত্বকের টোন বা রোদে পোড়াভাব থাকে তবে আলুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন কাঁচা দুধ। যদি ত্বকের দাগের সমস্যা থাকে তাহলে আলুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন অলিভ ওয়েল।
ত্বকের বলিরেখা বা বয়সের ছাপ দূর করতে চাইলে আলুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে গ্লিসারিন। আর যদি গায়ের রং ফর্সা বা উজ্জ্বল করতে চান তাহলে আলুর রসের সঙ্গে মিশাবেন লেবুর রস।
রূপচর্চায় আলুর রসকে ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই এর পরিমাণকে বিশেষ গুরুত্ব দিবেন। যদি আপনি ২ চামচ আলুর রস নেন তবে তার সঙ্গে দুধ, গ্লিসারিন, অলিভ ওয়েল কিংবা লেবুর রসও ২ চামচ পরিমাণই মিশাবেন।
নিয়মিত ব্যবহারে এক মাসের মধ্যেই কাঙ্খিত পরিবর্তন আপনার চোখে পড়বে। যা দেখে শুধু আপনার নয়, নজর কাড়বে সবার।
