ঐশ্বরিয়ার প্রেমের শহরেই ব্যবসা শুরু করেছিলেন অভিষেক

বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের জীবনে জয়পুরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন স্মৃতি। শুধু ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ নয়, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও শহরটিকে শুভ মনে করেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রো-কাবাডি লিগের প্রথম মৌসুমের আগে জয়পুর দল কিনেছিলেন অভিষেক। এত শহর থাকতে কেন জয়পুরকেই বেছে নিয়েছিলেন, সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই কারণ জানিয়েছেন অভিনেতা।

অভিষেক জানান, তার প্রথম সিনেমা ‘রিফিউজী’র একটি অংশের শুটিং হয়েছিল জয়পুরে। সেই স্মৃতি থেকেই নতুন কোনো কিছু শুরু করার জন্য শহরটিকে তার কাছে শুভ বলে মনে হয়েছিল।

২০০০ সালে ‘রিফিউজী’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় অভিষেকের। সিনেমাটির মূল শুটিং হয়েছিল গুজরাটের কচ্ছ এলাকায়। তবে জয়পুর ও মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতেও এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশের শুটিং করা হয়েছিল।

তবে জয়পুরের সঙ্গে অভিষেকের সম্পর্ক শুধু সিনেমার শুটিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও। অভিষেক জানান, জয়পুরেই ঐশ্বরিয়া রায়ের সঙ্গে তার প্রেমের শুরু।

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘উমরাও জান’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। সিনেমাটির কিছু অংশের শুটিংও হয়েছিল জয়পুরে। ফলে শহরটির সঙ্গে অভিষেকের আবেগের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে।

অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার অবশ্য এর আগেও একাধিক সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন। ২০০০ সালে ‘রিফিউজী’ মুক্তির কয়েক মাস পর ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ সিনেমায় প্রথমবার একসঙ্গে দেখা যায় তাদের। এরপর ২০০৩ সালে ‘কুছ না কহো’ সিনেমায় ফের জুটি বাঁধেন তারা।

২০০৫ সালে ‘বান্টি অউর বাবলি’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘কজরা রে’-তে একসঙ্গে দেখা যায় অভিষেক ও ঐশ্বরিয়াকে। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিষেকের বাবা অমিতাভ বচ্চনও। এরপর ২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ ও ‘ধুম ২’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া।

পরে মণি রত্নমের ‘গুরু’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন তারা। সিনেমাটি মুক্তির আগেই তাদের বাগ্‌দানের খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২০০৭ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিষেক ও ঐশ্বরিয়া।

জয়পুর বেছে নেওয়ার পেছনে শুধু নিজের স্মৃতি নয়, পরিবারের ছোঁয়াও রেখেছিলেন অভিষেক। প্রো-কাবাডি লিগের দলটির নাম রেখেছিলেন ‘জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্স’। এই নামের পেছনেও রয়েছে মেয়ে আরাধ্যার পছন্দ।

অভিষেক জানান, সে সময় তার মেয়ে আরাধ্যার প্রিয় রং ছিল গোলাপি। তাই মেয়ের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই দলের নামে ‘পিঙ্ক’ শব্দটি যুক্ত করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালে অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাদের একমাত্র সন্তান আরাধ্যা।

সব মিলিয়ে জয়পুর অভিষেক বচ্চনের কাছে কেবল একটি শহর নয়। অভিনয়জীবনের শুরুর স্মৃতি, ভালোবাসার সম্পর্ক এবং পরিবারের নানা আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহরটি। তাই ব্যবসায়িকভাবে নতুন যাত্রা শুরুর সময় জয়পুরকেই শুভ মনে করে বেছে নিয়েছিলেন এই বলিউড তারকা।

Read Previous

শপথ নেওয়া ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন

Read Next

রোববার বঙ্গভবনে উঠবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

Most Popular