আমাদের দেশে অনেকেই মুরগির পা খেতে পছন্দ করেন না। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুরগির মাংসের পাশাপাশি এর পা-ও বহুদিন ধরে রান্নায় ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে স্যুপ, স্টু ও বোন ব্রথ তৈরিতে মুরগির পা বেশ পরিচিত।
মুরগির পা দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে রান্না করলে এর শক্ত টিস্যু নরম হয়ে জেলাটিন তৈরি হয়। এই জেলাটিনে গ্লাইসিন ও প্রোলিনের মতো কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। এ কারণেই পুষ্টির দিক থেকে মুরগির পা খেতে পছন্দ করেন।
জয়েন্টের জন্য উপকারী
মুরগির পায়ে থাকা কোলাজেন ও জেলাটিন শরীরের বিভিন্ন টিস্যু তৈরির কাজে প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান সরবরাহ করতে পারে। তাই সুষম খাবারের অংশ হিসেবে মুরগির পা জয়েন্ট ও কার্টিলেজের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে শুধু মুরগির পা খেলেই জয়েন্টের ব্যথা বা কার্টিলেজের সমস্যা ভালো হয়ে যাবে-এমনটা বলা ঠিক নয়। জয়েন্ট ভালো রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন এবং পুষ্টিকর খাবারও প্রয়োজন।
কোলাজেনের উৎস হিসেবে বিভিন্ন দেশে মুরগির পা ব্যবহার করা হয়কোলাজেনের উৎস হিসেবে বিভিন্ন দেশে মুরগির পা ব্যবহার করা হয়
ত্বকের জন্যও কোলাজেন গুরুত্বপূর্ণ
ত্বকের গঠন ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে কোলাজেন গুরুত্বপূর্ণ। মুরগির পা থেকে পাওয়া কোলাজেন হজমের পর অ্যামিনো অ্যাসিডে ভেঙে যায়। শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী এসব উপাদান ব্যবহার করে। তাই কোলাজেনসমৃদ্ধ খাবার সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে শুধু মুরগির পা খেলেই ত্বক টানটান হয়ে যাবে বা বলিরেখা কমে যাবেনা। বয়স, রোদে থাকা, ঘুম, খাবার ও জীবনযাপনও ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে।
কোলাজেন খেলেই কি শরীরে সরাসরি যায়?
মুরগির পা দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি করা বোন ব্রথে জেলাটিন পাওয়া যায়। জেলাটিনের কিছু উপাদান অন্ত্রের স্বাভাবিক গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এটি স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে।
তবে বোন ব্রথ খেলেই গাটের সব সমস্যা ভালো হয়ে যাবে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। মুরগির পায়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো কিছু খনিজও থাকে। তবে এর পরিমাণ রান্নার ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
কোলাজেন খেলেই কি শরীরে সরাসরি যায়?
অনেকে মনে করেন, কোলাজেনযুক্ত খাবার খেলে সেই কোলাজেন সরাসরি ত্বক বা জয়েন্টে গিয়ে জমা হয়। আসলে বিষয়টি এমন নয়।
খাবারের কোলাজেন হজমের সময় ছোট ছোট অংশ ও অ্যামিনো অ্যাসিডে ভেঙে যায়। পরে শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো ব্যবহার করে। শরীরে স্বাভাবিকভাবে কোলাজেন তৈরির জন্য শুধু কোলাজেনযুক্ত খাবার নয়, পর্যাপ্ত প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন সি, জিঙ্ক ও কপারও প্রয়োজন।
মুরগির পা দিয়ে বোন ব্রথ বানাবেন যেভাবে
প্রথমে মুরগির পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এরপর পানি, পছন্দের সবজি ও হার্বস দিয়ে একটি পাত্রে দিন। কম আঁচে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধীরে ধীরে রান্না করুন।
দীর্ঘ সময় রান্না করলে মুরগির পায়ের টিস্যু নরম হয়ে জেলাটিন বের হতে পারে। সাধারণত ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা ধীরে রান্না করা হয়। তবে রান্নার সময় পাত্র, তাপমাত্রা ও উপকরণের ওপর নির্ভর করতে পারে। রান্না শেষে উপরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে চাইলে তা তুলে ফেলতে পারেন। এরপর বোন ব্রথ স্যুপ হিসেবে কিংবা অন্য খাবারের সঙ্গে খাওয়া যায়।
মুরগির পা পুষ্টিকর খাবারের অংশ হতে পারে। তবে এটিকে কোনো অলৌকিক খাবার হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। শরীর সুস্থ রাখতে শুধু কোলাজেন নয়, বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, ভিটামিন ও খনিজ প্রয়োজন।
তাই মুরগির পা বা এটি দিয়ে তৈরি বোন ব্রথ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। কিন্তু ত্বক, জয়েন্ট বা গাটের সমস্যা দূর করার একমাত্র উপায় হিসেবে এটিকে দেখা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
