
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার ঢাকায় আনার জন্য চারটি ইঞ্জিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনেসহ এ সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংগঠন। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার রাজধানীর কমলাপুর আইসিডিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, আইসিডি পথে পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রমে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, কাস্টমস এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।
কনটেইনার পরিবহনের জন্য চারটি ইঞ্জিন সংযুক্ত বা বরাদ্দ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রেলওয়ে ইঞ্জিনগুলো যাত্রী পরিবহনের কাজে ব্যবহার করে। ফলে কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকে। এতে আমদানিকারকদের লাখ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
মিজানুর রহমান বলেন, কাস্টমসে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে। একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা জায়গায় আগুন দিচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কমলাপুর আইসিডিতে কনটেইনারবাহী ট্রেন আসা কমে গেছে। আগে দৈনিক অন্তত দুটি ট্রেন আসলেও এখন আসে একটি। এতে বন্দরে কনটেইনারের জট লেগে গেছে। অন্যদিকে কমলাপুর আইসিডিতে কনটেইনার না আসায় আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শ্রমিকরাও বেকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, চীন থেকে কনটেইনারবাহী জাহাজ আসতে সময় লাগে ১৫ থেকে ১৬ দিন। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কমলাপুর কনটেইনার আসতে লাগে ২০ থেকে ২৫ দিন। কনটেইনারে জট লেগে থাকা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রান্সপোর্ট মালিকদের অতিরিক্ত খরচ ও ডিটেনশন চার্জ গুনতে হচ্ছে। সরকারের রাজস্ব আদায় কমছে।
বিক্ষোভে অংশ নেন ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, আইসিডি বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন, কাভার্ডভ্যান এবং ট্রেইলার মালিক সমিতি ও আইসিডির ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা।
