যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়লেও ইউরোপ ও অপ্রচলিত বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মার্কিন বাজারে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জন করেছে। জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ৩.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক, যা আগের বছরের ৩.১২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ জটিলতার সমাধানের পর ক্রেতারা আবার অর্ডার দিতে শুরু করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব মন্তব্য করেছেন, “ট্যারিফ সমন্বয়ের পর ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিচ্ছেন। তবে খরচ কমানো এবং ট্যারিফ মোকাবিলায় উদ্যোগী হতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বৃদ্ধির পরও ইউরোপ ও অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশে চলতি অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৭.৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৭.৯১ বিলিয়নের তুলনায় কম। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, রাশিয়া, তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের অপ্রচলিত বাজারেও প্রবৃদ্ধি কমে ১৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমেছে।

বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “ইউরোপের বাজারে চীন-ভারতের আধিপত্য রয়েছে। অপ্রচলিত বাজারেও তারা এগিয়ে।” যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বাংলাদেশ যথাক্রমে ৩ শতাংশ (১.৮৪ বিলিয়ন ডলার) ও ৬.৫১ শতাংশ (৫৫৪ মিলিয়ন ডলার) বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শুল্ক হার বেশি হওয়ায় ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, “যুক্তরাষ্ট্র ট্যারিফ বাড়িয়েছে, ইউরোপের ক্রেতারাও কম দামে কেনার চাপ দিচ্ছে। খরচ কমাতে হবে এবং সরকারের পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন।”

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের ৩৯.৩৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে এখানে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক হার ২০ শতাংশ, চীন ও ভারতের ক্ষেত্রে অনেক বেশি।

Read Previous

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

Read Next

সৌদিতে অনুমতি ছাড়া নির্বাচনী সভা, কয়েকজন বাংলাদেশি আটক

Most Popular