মিথিলার নজরকাড়া দুই রূপে ফ্যাশনে বাজিমাত

বিলাসবহুল গাড়ি, ঝকঝকে আলো আর গ্ল্যামারাসে ফ্রেমটি এমনিতেই নজরকাড়া। কিন্তু সেখানে চোখ আটকে যায় অন্য জায়গায়। গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিয়া জামান মিথিলার স্টাইল যেন পুরো দৃশ্যের আলাদা আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

কখনো রাজকীয় নীল গাউনে তিনি হয়ে উঠেছেন রূপকথার চরিত্র, আবার কখনো সাদা ট্যাংক টপ ও ফ্লেয়ার জিন্সে ধরা দিয়েছেন একেবারে এফোর্টলেস শিক লুকে।

মিথিলার ফ্যাশনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এই বৈচিত্র্য। একদিকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের নাটকীয়তা, অন্যদিকে দৈনন্দিন পোশাকের সহজ সৌন্দর্য-দুই ধরনের স্টাইলই নিজের ব্যক্তিত্বে মানিয়ে নিতে জানেন তিনি। মিস ইউনিভার্স ২০২৫ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণের এই বিশেষ গাউনটি পরেছিলেন।

ভিয়েতনামী ব্র্যান্ড ‘মিন তুয়ান কুতুর এই রাজকীয় নীল রঙের স্ট্রাকচার্ড গাউনটি ডিজাইন করেছে মিথিলার নীল গাউনটি নিঃসন্দেহে তার সাম্প্রতিক ফ্যাশন লুকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয়। গাঢ় নীল রঙের শরীরঘেঁষা গাউনে ঝলমলে সিকুইনের কাজ পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে তরল আলোর মতো উজ্জ্বলতা।

তবে শুধু সিকুইন নয়, পোশাকটির আসল আকর্ষণ কাঁধের ওপরের ভাস্কর্যধর্মী স্ট্রাকচার। বড় ডানার মতো বিস্তৃত এই ডিজাইন এবং নীল পালকের ব্যবহার গাউনটিকে সাধারণ পার্টিওয়্যার থেকে নিয়ে গেছে অ্যাভেন্ট-গার্ড ফ্যাশনের জগতে। মনে হয়েছে, মিথিলা যেন কোনো আধুনিক রূপকথার চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছেন। গাউনের বডিফিট সিলুয়েটের সঙ্গে উরু পর্যন্ত স্লিট যোগ করেছে সাহসী আবহ। আবার ন্যুড ইলিউশন নেকলাইন পুরো পোশাকে এনেছে আধুনিক পরিশীলন।

এমন জমকালো পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্ত গয়নার প্রয়োজন ছিল না। কানে লম্বা ঝোলানো স্টেটমেন্ট দুলই যথেষ্ট ছিল। গাউনের গাঢ় নীলের সঙ্গে রুপালি ঝিলিক তৈরি করেছে সুন্দর কনট্রাস্ট।

চুল পরিপাটি করে পেছনে বাঁধা। সামনে কয়েকটি আলগা চুল মুখের পাশে নেমে এসে সাজে এনেছে নরম আবহ। স্মোকি আই, নিখুঁত আইলাইনার, ন্যুড-গোলাপি ঠোঁট ও গ্লসি বেস মেকআপেও ছিল নিয়ন্ত্রিত গ্ল্যামার।

বলে। সাদা ক্রপড ট্যাংক টপের সঙ্গে ক্ল্যাসিক ওয়াশের ফ্লেয়ার জিন্স-সাদামাটা এই জুটিই তার স্টাইলকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।

সাদা টপের মিনিমাল ভাব আর ফ্লেয়ার জিন্সের রেট্রো সিলুয়েট একসঙ্গে তৈরি করেছে আধুনিক ক্যাজুয়াল লুক। পায়ে কালো পিপ-টো হিল যোগ হওয়ায় পোশাকটি আর নিছক ক্যাজুয়াল থাকেনি। এই লুকে গয়নাও ছিল বেশ হিসেবি।

কানে ও হাতে কন্টেম্পোরারি জুয়েলারির সঙ্গে সোনালি চেনের ঘড়ি। খোলা চুল, স্বাভাবিক অভিব্যক্তি আর আত্মবিশ্বাসী পোজ মিথিলার এই লুকটি দেখিয়েছে, আকর্ষণ তৈরি করতে সবসময় ঝলমলে পোশাকের প্রয়োজন হয় না। সঠিক সিলুয়েট, সামান্য অ্যাকসেসরিজ আর আত্মবিশ্বাসই যথেষ্ট।

ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি। কিন্তু মিথিলার উপস্থিতিতে গাড়িটিও যেন হয়ে উঠেছে তাঁর ফ্যাশন শুটের অংশ। বিশেষ করে সাদা টপ ও ফ্লেয়ার জিন্সের লুকে তৈরি হয়েছে আধুনিক, শহুরে ও কিছুটা রেট্রো আবহ।

দুটি লুক পাশাপাশি রাখলে মিথিলার ফ্যাশন সেন্সের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটিই চোখে পড়ে, তিনি একটি নির্দিষ্ট স্টাইলে আটকে নেই।আত্মবিশ্বাসই হয়তো তার প্রতিটি ফ্যাশন মুহূর্তকে আলাদা করে তোলে।

 

Read Previous

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে কারখানা চলছে জেনারেটরে, ডিজেলের ‘নীরব ঘাটতি’

Read Next

রাজনীতিতে ফিরতে হলে আ.লীগকে যা করতে হবে, জানলেন সোহেল তাজ

Most Popular