ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরালো হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আজ কিংবা আগামীকালের মধ্যেই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।
ইরান ও ওমানের মধ্যে এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো—উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থ সুরক্ষা করে নিরাপদ নৌপথ পুনরায় চালু করা।
প্রস্তাবিত একটি কারিগরি কাঠামোর অধীনে, ইরান দেশের অভ্যন্তরীণমুখী (ইনবাউন্ড) জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। অন্যদিকে ওমান তেহরানকে অবহিত করার পর বর্হিগামী (আউটবাউন্ড) জাহাজগুলোকে ছাড়পত্র দেবে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান চান ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আলোচনা অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে, তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং প্রণালী বন্ধ থাকলে তেহরানকে চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে, ইরান এই চুক্তি চূড়ান্তকরণে বিলম্বের জন্য মার্কিন হস্তক্ষেপ ও সামরিক হুমকিকে দায়ী করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো ধরনের সামরিক চাপের মুখে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না।
তেলের বাজারে প্রভাব
দীর্ঘদিন সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পর এই সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের জন্য জ্বালানি ব্যয় কিছুটা সহজ হয়েছে।
বিশ্লেষক এবং সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালী সংকটের মূল সমাধান মূলত বাণিজ্যিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল—বিশেষ করে নিরপেক্ষ ও বেসামরিক জাহাজগুলোর জন্য বীমার আস্থা এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

এদিকে বাজার পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে বৈশ্বিক শিপিং কার্যক্রম বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ বিকল্প ট্রানজিট করিডোর খোঁজার চেষ্টা করছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার মাসকট ও তেহরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক চ্যানেলের ফলাফলের দিকে নিবিড় নজর রাখছে।
