ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘DUCSU FREE SPECIALISED HEALTH FEST 360°’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রায় ৬,৫০০ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিনামূল্যে ওষুধও পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
দুই দিনব্যাপী এ কার্যক্রমের সমাপনী দিনে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) একই সময় প্রথম দিনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া এবং চাহিদার কারণে দ্বিতীয় দিনে সেবার পরিধিও আরও বিস্তৃত করা হয়।
ফেস্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না ও আফসানা আকতার। দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ‘ডায়েট অ্যান্ড নিউট্রিশন’ চিকিৎসাসেবা বুথ স্থাপন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ মো. সাইফুল্লাহ ফারুকী এবং ডায়েটিশিয়ান আমাতুল্লাহ শারমিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পরামর্শ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল; সেবা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতেও একই চিকিৎসকের কাছ থেকে বিনামূল্যে চেকআপের সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করার একটি অনন্য উদ্যোগ।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আকতার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনা, আবাসিক জীবন ও নানা ব্যস্ততার কারণে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই আমরা একই জায়গায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি। শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ আমাদের এ আয়োজন সফল করেছে।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, স্বাস্থ্য ফেস্টকে আমরা শুধু দুই দিনের একটি আয়োজন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরির একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্বিতীয় দিনে ডায়েট অ্যান্ড নিউট্রিশনসহ সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ বলেন, একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ডাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং স্বাস্থ্যসেবা তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা চেয়েছি, আর্থিক বা সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।
ডাকসু জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দায়িত্বশীল ও কার্যকর ছাত্র সংসদ হিসেবে ডাকসু কাজ করতে চায়। স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা এমন একটি আয়োজন করেছি, যেখানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করেই বর্তমান ডাকসুর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সম্মিলিত নারী প্রয়াসের আহ্বায়ক শামীমা তাসনীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম খানসহ ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ।
সম্মিলিত নারী প্রয়াসের আহ্বায়ক শামীমা তাসনীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিয়মিত চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ডাকসুর এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পাশাপাশি তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এখানকার শিক্ষার্থীদের সুস্থতা নিশ্চিত করা জাতীয়ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
স্বাস্থ্য ফেস্টের প্রথম দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ, ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন ও মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য চৌধুরী মাহমুদ হাসান, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের আহ্বায়ক মারুফ শাহরিয়ার, ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দীন খান, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার প্রমুখ।
