মশা থেকে বাঁচতে বাইরে বের হওয়ার সময় আমরা সাধারণত ফুল প্যান্ট ও গা-ঢাকা পোশাক পরি। শরীরের যত বেশি অংশ ঢাকা থাকবে, মশার কামড়ের ঝুঁকিও তত কমবেসেটাইভেবে থাকি। কিন্তু শুধু ফুল প্যান্ট পরলেই যে মশার কামড় থেকে পুরোপুরি বেঁচে যাবেন, তা কিন্তু নয়। পোশাকের ধরন ও কাপড়ের বুননের ওপরও অনেকটা নির্ভর করে মশা শরীরে পৌঁছাতে পারবে কি না।
কাপড় ভেদ করে মশা কামড়ায় কীভাবে
নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের মতে, মশার মুখের অংশ অত্যন্ত সরু ও সূক্ষ্ম। তাই খুব পাতলা কাপড়ের বুননে থাকা ক্ষুদ্র ফাঁক দিয়ে মশার মুখের অংশ ত্বকের কাছে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় পরা পাতলা সুতির পোশাক অনেক সময় মশার জন্য পুরোপুরি বাধা তৈরি করতে পারে না।
শুধু পাতলা কাপড়ই নয়, খুব আঁটসাঁট পোশাকও সুরক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন টাইট লেগিংস বা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা প্যান্টে কাপড় ও ত্বকের মধ্যে প্রায় কোনো ফাঁক থাকে না। ফলে মশা কাপড়ের ওপর বসেই ত্বকে কামড় দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
অর্থাৎ ফুল প্যান্ট পরা অবশ্যই ভালো অভ্যাস। তবে প্যান্টের দৈর্ঘ্য বেশি হলেই মশার কামড় থেকে শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না।
যেভাবে আরও নিরাপদ থাকবেন
মশার কামড় এড়াতে শরীর ঢাকা রাখার পাশাপাশি পোশাকের ধরনেও নজর দিন। খুব পাতলা কাপড়ের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে ঘন বুননের কাপড় বেছে নিতে পারেন। একই সঙ্গে শরীরের সঙ্গে একেবারে চেপে থাকে এমন পোশাকের বদলে কিছুটা ঢিলেঢালা পোশাক পরলে ত্বক ও কাপড়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
প্রয়োজনে খোলা শরীরে মশা প্রতিরোধক রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে থাকার সময় বিশেষ করে সন্ধ্যা ও ভোরের দিকে সতর্ক থাকা ভালো, কারণ এ সময় অনেক মশার সক্রিয়তা বেশি থাকে।
তবে শুধু নিজের শরীর ঢেকে রাখলেই হবে না। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশেও নজর দিতে হবে। টব, বালতি, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন বা অন্য কোথাও পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। কারণ জমে থাকা পানিতে মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
তাই ফুল প্যান্ট পরুন, তবে সেটাকেই একমাত্র সুরক্ষা মনে করে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন না। সঠিক পোশাক, মশা প্রতিরোধক এবং আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখলেই মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।
