চিনির বদলে গুড় খেলে শরীরে কী ঘটে?

পরিশোধিত চিনি দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদরোগসহ নানা জটিলতার আশঙ্কা বাড়ে। এ প্রেক্ষাপটে পুষ্টিবিদরা চিনি বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক মিষ্টিকারক হিসেবে গুড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রশ্ন হলো-চিনির বদলে গুড় খেলে শরীরে আসলে কী পরিবর্তন ঘটে?
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, গুড় আখ বা খেজুরের রস থেকে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় এবং এতে পরিশোধিত চিনির মতো রাসায়নিক প্রক্রিয়া নেই। ফলে গুড়ে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান কিছুটা হলেও বজায় থাকে।
রক্তস্বল্পতা কমাতে সহায়ক
গুড়ে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত গুড় গ্রহণ রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হজমে ইতিবাচক প্রভাব
গুড় হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক। এটি পাচক রসের নিঃসরণে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে।
শক্তির প্রাকৃতিক উৎস
চিনির মতো হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে না দিয়ে গুড় ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। ফলে দীর্ঘ সময় শরীর চাঙ্গা থাকে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক
গুড়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে সহায়তা করে এবং ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব কমায়।
তবে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তাও রয়েছে। গুড় তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর হলেও এটি সম্পূর্ণ নির্দোষ নয়। অতিরিক্ত গুড় গ্রহণেও ক্যালরি বাড়তে পারে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে হলে পরিশোধিত চিনি কমিয়ে সীমিত পরিমাণে গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বজায় রাখাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
