কিডনিতে পাথর হয়েছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

কিডনিতে পাথর বা কিডনি স্টোন বর্তমানে একটি অত্যন্ত পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পানি না পান করার কারণে দিন দিন এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাথরের আকার ছোট হলে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে পাথরটি যখন কিডনি থেকে সরে মূত্রনালিতে আসে, তখন শুরু হয় অসহ্য ব্যথা ও নানা জটিলতা।

আপনার কিডনিতে পাথর হয়েছে কি না, তা বুঝতে সহায়ক কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ ও প্রাথমিক সংকেত নিচে তুলে ধরা হলো।

১. পিঠের নিচে বা কোমরে তীব্র ব্যথা

কিডনি স্টোনের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো পিঠের দু’পাশে, পাঁজরের নিচে বা তলপেটে হঠাৎ করে শুরু হওয়া তীব্র ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথা কোমর থেকে কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। ব্যথার মাত্রা কখনো বাড়ে, কখনো কমে—যা রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

২. প্রস্রাবের রঙ ও গন্ধে পরিবর্তন

প্রস্রাবের রঙ যদি লালচে, বাদামি বা ঘোলাটে হয়ে যায়, তাহলে তা কিডনিতে পাথরের ইঙ্গিত হতে পারে। পাথরের ঘর্ষণে মূত্রনালিতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত হতে পারে। পাশাপাশি প্রস্রাবে দুর্গন্ধ থাকাও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

৩. বারবার প্রস্রাবের চাপ ও জ্বালাপোড়া

পাথর মূত্রনালির কাছে চলে এলে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয়। প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বা তীব্র ব্যথা (ডিসইউরিয়া) হওয়াও কিডনি স্টোনের একটি সাধারণ লক্ষণ।

৪. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

কিডনি ও পাকস্থলির স্নায়ুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিডনিতে পাথরের কারণে চাপ সৃষ্টি হলে অনেক সময় বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

৫. জ্বর ও কাঁপুনি দিয়ে শরীর গরম হওয়া

ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর আসে এবং শরীর কাঁপতে থাকে, তবে বুঝতে হবে কিডনিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এটি একটি জরুরি অবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

বেশি বেশি পানি পান করুন: বেশি বেশি পানি পান করুন, যাতে প্রস্রাব পরিষ্কার থাকে এবং পাথর জমার ঝুঁকি কমে।

লবণ ও অক্সালেটজাত খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখুন : অতিরিক্ত লবণ, পালং শাক, বিট, চকোলেট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

লেবুর রস উপকারী : প্রতিদিন লেবু-জল পান করলে এতে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর জমতে বাধা দেয়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে সোজা হয়ে বসতে পারছেন না, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হয় বা প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়-তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হোন।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে সহজেই কিডনিতে পাথরের উপস্থিতি ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই কিডনি স্টোনের জটিলতা থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Read Previous

এনসিপির নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আসিফ মাহমুদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular