শীতের ঠান্ডায় পানি খেতে ইচ্ছা হয় না কারও। ঘামও হয় না বলে পানির তৃষ্ণাও কম পায়। কিন্তু তাই বলে পানি খাওয়া বাদ দিলে হবে না। কারণ তাতে শারীরবৃত্তীয় কাজে প্রভাব পড়তে পারে। পানির অভাবে পেটও ফুলে যেতে পারে। পানি কম খেলে প্রয়োজন হয় তরল খাবার।
সে জন্য শীতের দিনে গরম পানীয়ে আস্থা রাখতে বলেছেন চিকিৎসকরা। আর দিনে গরম পানীয় হিসাবে চা পছন্দ সবারই। সেই চা-ই হতে পারে আরও বেশি কিছু!
এ বিষয়ে পেটের অসুখের চিকিৎসক সৌরভ শেট্টী। নেটপ্রভাবী শীতের দিনে পেট ভালো রাখার সহজ উপায় বলে দিয়েছেন। শীতকালে পারি কম খাওয়ার কারণে অনেক সময় শরীর গরম হয়ে যায়। দেখা দেয় হজমের সমস্যা, গ্যাস-অম্বলের সমস্যা। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পেট ভালো রাখতে যা খাবেন-
আদা চা
শীতের দিনে গলা খুসখুস হোক কিংবা গলাব্যথা— আদা চায়ের বিকল্প নেই। আদা চা খেলে শুধু আরামই হয় না, পেটফাঁপা কিংবা বমিভাবের সমস্যা থাকলেও তা দূর করে এ পানীয়। আর আদা চা খাবার পরিপাকেও সহায়ক। আদা কার্যত ভেষজ হিসাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এতে থাকা জিঞ্জেরল ও শোগোল প্রদাহনাশক উপাদান। আদা চা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পারে, এ পানীয় হার্টের জন্যও ভালো।
জবা চা
জবা ফুলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরের পক্ষে ভালো। জবা চায়ে মেলে অ্যান্থোসায়ানিন, যা রক্তনালিকে শিথিল করতে সাহায্য করে থাকে। এ ধরনের পানীয় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে থাকে। আর কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে।তবে অন্তঃসত্ত্বাদের এ চা না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
মাচা
মাচা চা খাওয়ার চল এখন জাপান ও তাইওয়ান ছাড়িয়ে বিশ্বের বহু দেশেই শুরু হয়েছে। একে শুধু চা না বলে তার চেয়ে বেশি কিছু বলা যায়। সাধারণত চা ও কফির তুলনায় মাচায় ক্যাফিনের মাত্রা অনেক কম থাকে। এ চা খেলে অম্বলের ঝুঁকিও কমে যায়। গবেষণা বলছে, জাপানের এ চায়ে ক্যাটেসিন নামক প্রচুর পরিমাণে এক ধরনের ফ্ল্যাভনয়েড রয়েছে। এই ফ্ল্যাভনয়েড আদতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আবার প্রদাহনাশক উপাদান। ক্যাটেসিন লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হার্ট-বান্ধবও।
