নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতির ফিরিস্তি তুলে ধরে। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনও এর ব্যতিক্রম নয়। ক্ষমতার হাতবদলে এসব প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন হয় সে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, দলগুলো ভোট টানতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। তাই শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের উপায় বাতলে জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ তাদের।
নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের প্রচারণায় বড় দুই রাজনৈতিক দলের কান্ডারি নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এসব বক্তব্যে উঠে আসে সামগ্রিক রাষ্ট্র নিয়ে পরিকল্পনার পাশাপাশি ঐ অঞ্চলের সংকট উত্তরণের আশ্বাস। এছাড়া আসনভিত্তিক প্রচারণাও প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়িয়ে পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণ যখন নতুন এক স্বপ্নের বাংলাদেশের পাটাতনে দাঁড়িয়ে ভোটের জন্য মুখিয়ে আছে, তখন দলগুলোর প্রচারণায় বাস্তবভিত্তিক প্রতিশ্রুতি থাকলে আশা জাগিয়ে রাখবে। এক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রাধান্য থাকবে মানুষের কাছে।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোহরাব হাসান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া, জ্বালানি সংকট এবং বেকারত্ব- এই বিষয়গুলো আশা করি প্রতিটি রাজনৈতিক দল গুরুত্ব দেবে, তারা একটা রূপরেখা দেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সব্বির আহমেদ বলেন, মানুষের একটি বৈশিষ্ট্য আছে বায়বীয় কথা বেশি বলা বাস্তবসম্মত কথা কম বলা। এটিই হচ্ছে আমাদের ম্যানিফেস্টোগুলোর বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতায় গিয়ে তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী কতটুকু বাস্তবায়ন করে এটি দ্বারাই প্রমাণিত হয় আসলে কতটুকু কমিটমেন্ট তারা দিয়েছিল কতটুকু তারা রাখলো।
দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তীর ছুঁড়তে দেখা যায় বক্তব্যের মধ্যে। প্রতিশ্রুতি নিয়েও পরস্পরে প্রশ্নবাণে জড়াচ্ছেন। সাধারণ জনগণ দর্শকের ভূমিকায় থেকে হিসেব কষছেন। এক্ষেত্রে অতীতের ভুল বা বর্তমান নিয়ে বেশি কাদা ছোড়াছুড়ি না করে বাস্তবসম্মত দুরদর্শী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইশতেহারে তুলে ধরার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
সোহরাব হাসান বলেন, মানুষ জানতে চায় ভবিষ্যতে কি হবে? ভবিষ্যতে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন কি হবে? তার কর্মসংস্থান হবে কিনা? তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কিনা? আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়গুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব দেবে। নির্বাচনী ইশতেহারে যেন অতীত কাসন্দি না ঘাটা হয়।
সাব্বির বলেন, বড় চ্যালঞ্জ হবে। দক্ষ নেতৃত্বের দক্ষতার উপর আসলে নির্ভর করবে মানুষের ভবিষ্যত। সেটা তারেক রহমানই হোক, ডা. শফিকুর রহমানই হোক বা অন্য যে কেউ হোক তাদের সদিচ্ছা অনুযায়ী কাজ তারা করবে কিনা?
রাজনীতির সমীকরণ, সমীক্ষা কিংবা প্রতিশ্রুতির গ্রহণযোগ্যতার সব হিসাব নিকাশ নির্বাচনের ফলাফল বলে দেবে। তবে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সর্বজন আকাঙ্ক্ষা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেক্ষেত্রে দলগুলোকে সহনশীলতা দেখানোর পরামর্শ তাদের।
