আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের ভূমিকা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়—সে লক্ষ্যে কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। দায়িত্বপালনকালে কোনো ধরনের পক্ষপাত, অপেশাদার আচরণ বা অনিয়মের সুযোগ না রাখতেই ২২ দফা ‘বর্জনীয় কাজের’ তালিকা দেওয়া হয়েছে বাহিনীর সদস্যদের।
নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারি বজায় রাখাই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।
ভোটকেন্দ্রে যেসব কাজ পুলিশ করতে পারবে না
১. কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, উপহার বা সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না
২. প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলা, ব্যক্তিগত আলাপ বা ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন নিষিদ্ধ
৩. ভোটার বা নির্বাচন কর্মকর্তার কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করা যাবে না
৪. প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না
৫. ভোটারকে কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে–বিপক্ষে প্রভাবিত করা যাবে না
৬. রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা যাবে না
৭. পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ নিষিদ্ধ
৮. কোনো রাজনৈতিক মিছিল, সভা বা দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা যাবে না
৯. ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ বা মন্তব্য করা যাবে না
১০. গালিগালাজ, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না
১১. নির্বাচনি আইন–বিধির পরিপন্থি নির্দেশনা পালন করা যাবে না
১২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য করা যাবে না
১৩. দায়িত্বকালে অপ্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা যাবে না
১৪. ভোটের দিন ব্যক্তিগত ফোনালাপ এড়িয়ে চলতে হবে
১৫. দায়িত্ব পালনের সময় অনৈতিক বা অপেশাদার আচরণ করা যাবে না
১৬. নির্বাচন-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না
১৭. সম্ভাব্য ফলাফল বা বিজয়ী নিয়ে আগাম মন্তব্য করা যাবে না
১৮. অনুমোদন ছাড়া স্পর্শকাতর ছবি বা ভিডিও কারও কাছে পাঠানো যাবে না
১৯. দলবদ্ধ হয়ে অযথা ঘোরাফেরা বা আড্ডা দেওয়া যাবে না
২০. জনসমাগমস্থল, ফুটপাত বা টং দোকানে বসে থাকা নিরুৎসাহিত
২১. দায়িত্বকালে যত্রতত্র খাবার গ্রহণ বা অশোভন পোশাক পরা যাবে না
২২. বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো আচরণ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে
সংক্ষেপে, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ সদস্যদের প্রতিটি পদক্ষেপই থাকবে নজরদারির আওতায়। তাই নিরপেক্ষতা, সংযম ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপরই জোর দিচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে আস্থা অটুট থাকে।
