এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করল নতুন মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে শপথ নিয়েছেন ৪৯ জন নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে শপথ অনুষ্ঠানের নজর কেড়েছেন ঢাকা-৬ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
তরুণ এই রাজনীতিবিদ তার প্রথম সংসদীয় মেয়াদেই জায়গা করে নিয়েছেন মন্ত্রিসভায়। তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা ইশরাক হোসেন ঢাকার সাবেক সফল মেয়র ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মরহুম সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে। পারিবারিকভাবেই রাজনীতির আবহে বেড়ে ওঠা ইশরাক ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনায় আসেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাকে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। তবে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন এবং আজ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।
ইশরাক হোসেনের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল। ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল এবং এ-লেভেল সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যুক্তরাজ্যের মোটরগাড়ি শিল্পে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলাভিশন’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।
ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দফতরে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেয়াই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।’
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইশরাকের মতো উচ্চশিক্ষিত এবং তরুণ নেতৃত্বের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি প্রশাসনে গতিশীলতা এবং আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে আসবে। এখন দেখার বিষয়, তারুণ্যের এই উদ্যম দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে কতটুকু এগিয়ে নিতে পারেন।
