চাহিদার অতিরিক্ত আমদানি, তবু কেন কমছে না ফলের দাম?

 

রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশে বিদেশ থেকে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন কমলা, আঙুর, আপেল ও মাল্টা আমদানি করা হয়েছে। এই আমদানির মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পেয়েছে। তবুও রেকর্ড পরিমাণ আমদানির পরও সব ধরনের ফলের দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চাহিদার অতিরিক্ত আমদানি, তবু কেন কমছে না ফলের দাম?

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ৮৬ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন আপেল, ৪৪ হাজার ৪৫৬ মেট্রিক টন আঙুর, ৫০ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন মাল্টা এবং ৫৬ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন কমলা খালাস হয়েছে। যার মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ২২ কোটি টাকা। এসব আমদানি করা ফল বর্তমানে রমজানের বাজারে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানিয়েছেন, গত সাড়ে সাত মাসে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ফল আমদানি হয়েছে এবং প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব এসেছে। আমদানি করা আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুর দ্রুত খালাসের জন্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে পারে।

মূলত মিশর ও চায়না থেকে মাল্টা, পোল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মালদোভা থেকে আপেল, ভারত থেকে আঙুর এবং চীন থেকে কমলা আমদানি করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আমদানি হলেও ফলের দাম কমছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানিকৃত ফলের প্রতি কনটেইনারে ৫ থেকে ১২ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, রমজান মাসে আন্তর্জাতিক বাজারেও ফলের দাম বেড়ে যায়। এছাড়া বাংলাদেশে ডলারের দাম ও শুল্কও দাম বাড়ার কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে ২০ কেজির আপেলের কার্টন ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৬ হাজার টাকা, সাড়ে আট কেজির কমলার কার্টন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ১০ কেজির আঙুরের কার্টন ২ হাজার ৮০০ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং ১৪ কেজির মাল্টা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হৃচ্ছে।

তবে ফল আমদানিতে অনেক বেশি শুল্ক আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স পায়েল ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত সরকার বলেন, ৮০ টাকার ফলে ১১০ টাকা ডিউটি দিতে হচ্ছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৩ টিইইউএস বা ৬২৫ বিশেষায়িত রেফার কনটেইনার রাখা আছে, যার অধিকাংশই আমদানিকৃত ফল বোঝাই। বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, এগুলোর দ্রুত খালাসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এছাড়া ইফতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেজুরও আমদানি করা হয়েছে ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা মূল্যের ৪৭ হাজার মেট্রিক টন। এ থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ৪৮১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এর বাইরে চার ধরনের আমদানি করা ফল থেকে আরও ২ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব ফলে দেশীয় বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ায় দেশীয় ফল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কম দামের পাশাপাশি পুষ্টিগুণে দেশীয় ফল বিদেশি ফলের তুলনায় অনেক উন্নত।

Read Previous

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

Read Next

এখনও যেভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারে পাকিস্তান

Most Popular