বিএনপিকে ‘সাপ ও দুধ-কলা’র গল্প মনে করালেন আসিফ মাহমুদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণ ও অস্ত্র প্রদর্শনীতে অভিযুক্ত আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিমের রহস্যজনক দেশে ফেরা এবং তাকে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার প্রচেষ্টায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে দেশটাকে আবারও অভয়ারণ্যে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আর এস ফাহিম গত নির্বাচনে একজন প্রভাবশালী এমপি প্রার্থীর (যিনি বর্তমানে এমপি এবং মন্ত্রী) পিআরের (জনসংযোগ) দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এ কারণেই হয়তো পুরস্কার স্বরূপ তাকে দেশে আনা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে ফাহিমকে সরাসরি গুলি চালাতে অথবা তার উপস্থিতিতে গুলি বর্ষণ করতে দেখা গেছে উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র প্রশ্ন তোলেন, “এত বড় অপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী দেশে ফিরেছেন? আমরা দেখছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব এবং সরকারের দায়িত্বশীল অনেক ব্যক্তিও বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।”
বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নতুন সরকারের ভেতর একটি পক্ষ আওয়ামী লীগকে ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর দোহাই দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে। বিএনপি হয়তো মনে করছে এর মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু তারা একটি বড় ফ্যালাসির (ভ্রান্ত ধারণা) মধ্যে বাস করছে।
আওয়ামী লীগকে বিষধর সাপের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে সাপের মতো। তাকে অসুস্থ অবস্থায় দুধ-কলা দিয়ে বড় করলে সে আপনার পোষ মানবে না, বরং সুস্থ হয়ে আপনাকেই প্রথম ছোবল মারবে।
বিএনপির অতীত রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই একই ভুল বিএনপি আগেও দুইবার করেছে। প্রথমবার জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও তারা শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ বিএনপিকেই রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে।
আসিফ মাহমুদ আক্ষেপ করে বলেন, “বিএনপি যখন নিপীড়িত ছিল, তখন আমরা এবং দেশের সাধারণ মানুষ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু বারবার একই ভুল করলে তাদের আসলে শিক্ষা হওয়া উচিত। আওয়ামী লীগ ফিরে এসে যেদিন আবারও তাদের ছোবল মারবে, সেদিন হয়তো আজকের এই সতর্কবাণীগুলো তাদের মনে পড়বে।”
