জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে রূপগঞ্জের খালগুলোর পুনঃখনন জরুরি

খাল আছে, নেই পানির স্বাভাবিক চলাচল। খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা, কলকারখানার বজ্র্য আর ময়লা আবর্জনায় প্রায় নিশ্চিহ্নের পথে সরকারি খাল। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে বেড়িবাঁধের ভেতরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

বছরের পর বছর এমন জলাবদ্ধতা ভোগান্তি থাকলেও খাল উদ্ধার, খাল খনন কিংবা পুনঃখননে নেই সরকারি উদ্যোগ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা ও ৩টি ইউনিয়ন ভুলতা, গোলাকান্দাইল ও মুড়াপাড়ার প্রায় ২০ গ্রামের বেড়িবাঁধের ভেতরের এলাকায় দেখা যায় এমন দৃশ্য।

জানা যায়, ১৯৮১ সালে জাইকার সহায়তায় ‘নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী ইরিগেশন প্রজেক্ট’ এর আওতায় কাঞ্চন পৌরসভা, মুড়াপাড়া-গোলাকান্দাইল-ভুলতা ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার একর জমি নিয়ে শীতলক্ষ্যার তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বেড়িবাঁধের ভেতরে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫টি খাল খনন করা হয়। নির্মাণ করা হয় বানিয়াদী স্লুইচগেইট। সেখানে বসানো হয় ৪টি সেচ পাম্প ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কাঞ্চন পৌরসভা, মুড়াপাড়া, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ২০ গ্রামের প্রায় ২ হাজার একর কৃষি জমি রয়েছে। এসব এলাকার কোথাও ৬ মাস আবার কোথাও সারাবছরই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা থাকে। তাতে শতকরা প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষি জমিই অনাবাদি পড়ে থাকে। হাটাব বারৈপাড় এলাকায় কানি বিলের পিঠাগুড়ি অংশে খালের ওপর বাগান বাড়ি নির্মাণ করায় বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক চলাচল। শীতলক্ষ্যা নদী থেকে টাটকির খাল, সুতালরির খাল, দাগিরমার খাল, কালাদী থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত ১৮০ ফিট এশিয়ান হাইওয়ে সংলগ্ন সরকারি খাল দখল হয়ে আছে সড়ক নির্মাণাধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের অবহেলায়। এছাড়াও অবৈধভাবে সরকারি খালের উপর কালাদী, নলপাথর, কুশাবো এলাকায় গড়ে ওঠেছে একাধিক বালুর গদি, হান্ডিমার্কেট এলাকায় খালের উপরে গড়ে ওঠেছে সাবানের ফ্যাক্টরি, এনডিই রেডিমিক্স, ম্যাংসাং সার্ভিসিং সেন্টারসহ একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান ও অর্ধশত বসতবাড়ি।

তাতে একদিকে পানি স্বাভাবিক চলাচল বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বালুর গদির শতশত টন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি। সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাশয় আর ভারি বর্ষণে রূপ নিচ্ছে জলাবদ্ধতা। ওই সমস্ত এলাকার মানুষের জীবন জীবিকাও বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। এছাড়াও কারখানার দূষিত বর্জ্য খোলা মাঠে ছেড়ে দেয়ায় পানিবাহিত রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে এলাকার মানুষের মধ্যে।

হাটাব এলাকার শরীফ মিয়া জানান, বিভিন্ন সময় প্রশাসনের লোকজন আসে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করে চলে যায়। কিন্তু খালগুলো নদীর সাথে সংযোগ করার ব্যবস্থা করে না।

জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে শ্যামল দাস বলেন, আগে বেড়িবাঁধের ভেতরের পানি ছোট ছোট খালের মাধ্যমে বানিয়াদী খালে পড়তো, পরে বানিয়াদী সেচপাম্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হতো। এখন খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

নরাবের টেক এলাকার সবুজ মিয়া বলেন, এশিয়ান হাইওয়ে (ঢাকা বাইপাস) বড় করার সময় ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করায় রাস্তার পাশের খালটা ভরে গেছে, কোথাও কোথাও খালের উপরেই রাস্তা বানানো হইছে। এখন খাল না হলে জলাবদ্ধতা কমবে না।

নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহমেদ বলেন, খাল খননের বিষয়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করেছি, উচ্ছেদ করেছি। এ অভিযান চলমান প্রক্রিয়া।’

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের কাছে তারাবো পৌরসভার তেতলাবো খাল, কাঞ্চন পৌরসভার উকিল বাড়ির খাল, মুড়াপাড়া-গোলাকান্দাইল এলাকার বানিয়াদী মোট ৩টি বড় খালের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে খুব শিগগিরই খালগুলো খনন করা হবে। এছাড়াও আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ছোট ছোট খালগুলো খনন করে দিচ্ছি।

Read Previous

অস্কারের নিয়ম কী বদলে যাচ্ছে?

Read Next

হবিগঞ্জে গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular