দেশে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসি ক্যামেরা বসাতে হাইকোর্টের রুল

দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে সারাদেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ক্লোজ সার্কিট-সিসি টিভি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর স্থাপনের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে রোববার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শককে (আইজিআর) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ রুলে নিবন্ধন অধিদফতরের আওতাধীন দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে হাই-ডেফিনিশন (এইচডি) সিসি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে মনিটর স্থাপনে অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া কেন বেআইনি ও আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সেবার ডিজিটালাইজেশন তদারকিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন এবং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে চব্বিশ ঘণ্টা কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন সরোয়ার নিজে জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল তিনি বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে আসেন তিনি।

আইনজীবী আল মামুন বলেন, সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের খবরে অনুপ্রাণিত হয়ে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে আমরা এ ক্ষেত্রে একটি ‘রোল মডেল’ হিসেবে পেয়েছি। তিনি নিজ উদ্যোগে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে মনিটরগুলো বাইরে জনগণের দেখার জন্য দিয়েছেন। আমি নিজে সেখানে গিয়ে বিষয়টি দেখেছি। সেটি দেখার পর আমার মনে হয়েছে, দেশে যদি এটি করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহিতার একটি পরিষ্কার জায়গা তৈরি হবে।

তবে জানা যায় রোববার সাভারের এ সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগে প্রত্যাহার করে নিবন্ধন দফতরে সংযুক্ত করার আদেশ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুধুমাত্র সিসি ক্যামেরা দিয়ে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনজীবী আল মামুন বলেন, দুর্নীতি তো আসলে মানুষের অন্তরের বিষয়। এটাকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা যায় না। কিন্তু আমরা এটা কমিয়ে আনতে পারি।

প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন এখানে একটি ‘আর্টিফিশিয়াল উইটনেস’ বা কৃত্রিম সাক্ষী হিসেবে কাজ করবে। এর একটি সাক্ষ্যগত মূল্য আছে। রেকর্ডগুলো সেখানে সংরক্ষিত থাকতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের জনগণের কাছে যে জবাবদিহিতা আছে, তা নিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে সিসি ক্যামেরা ছোট্ট একটি মাধ্যম হতে পারে।

রিট আবেদনে আইনি ভিত্তি হিসেবে বলা হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলো দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বচ্ছতার অভাবে জর্জরিত। যথাযথ তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও মানসিক চাপে ফেলা হচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অফিসগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ ও অশিক্ষিতরা দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, এটি সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের আওতায় সমান সুযোগ এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তথ্য সংগৃহীত।

Read Previous

এটিএন বাংলার ‘সংবাদকর্মী’ পরিচয়ে ইউএনওর কাছে চাঁদা দাবি

Read Next

সিসি ক্যামেরায় আনা হবে সড়ক-মহাসড়ক: সড়ক ও সেতুমন্ত্রী

Most Popular