ইসলামে ওয়াকফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি মূলত মুসলমানদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা নবীজি (সা.)-এর যুগ থেকেই চর্চিত হয়ে আসছে। সাহাবায়ে কেরাম, বিশেষ করে যাঁদের সামর্থ্য ছিল, তাঁরা প্রায় সবাই ওয়াকফ করেছেন।
ওয়াকফ ও অসিয়তের মাঝে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে: ওয়াকফ জীবিত অবস্থায় কার্যকর হয়, এবং তা প্রত্যাহারযোগ্য নয়। অসিয়ত মৃত্যুর পর কার্যকর হয় এবং তা জীবিত অবস্থায় পরিবর্তন করা যায়। ওয়াকফের মালিকানা দানকারীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না; বরং উপকারভোগীরা কেবল ব্যবহার করতে পারে।
অসিয়তের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত ব্যক্তির হাতে চলে যায়। ওয়াকফের জন্য কোনো সীমা নির্ধারিত নেই, কিন্তু অসিয়ত শুধুমাত্র মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত করা যায়, ওয়ারিশদের অনুমতি ছাড়া।
ওয়াকফ একটি চিরস্থায়ী সদকাহ, যা ইসলামি সমাজের উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শুধুমাত্র আখিরাতে সওয়াবের মাধ্যম নয়, বরং দুনিয়াতেও দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তার একটি কার্যকর উপায়।
