বাড়ির আঙিনাজুড়ে দেশি-বিদেশি ফলের গাছ। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে রসালো লোভনীয় ফল। রয়েছে বনসাইও। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির দেশি গাছের বনসাই।
এসব ফল আর বনসাই যেমন চোখের আড়াম দেয়, তেমনি অন্যদের উৎসাহ দেয় উৎপাদনে।
সোমবার (১১ মে) সরেজমিনে শ্যামপাড়া গ্রামে পংকজের বাগানে গিয়ে চোখে পড়ে সেখানকার বাহারি ফল ও বনসাই। বাগানটি দেখতে অনেক দর্শনার্থীও ভিড় করছে সেখানে।
উদ্যোক্তার কাছে তারা জানতে চাচ্ছেন উৎপাদনের কৌশল।
অল্প জায়গা, অথচ কেমন পরিচ্ছন্ন পরিপাটি। বসত, রান্নার জন্য টিনের ছাউনি ও বেড়া দেওয়া তিনটি ঘর। তার চারপাশের আঙিনায় প্রায় সাত-আট শতক জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে বাগান।
গাছে ফলেছে আপেল, কমলা, জামরুল, ড্রাগন, মাল্টা, আম,জাম, লিচু, পেয়ারাসহ হরেক রকম দেশি-বিদেশি ফল। এর মধ্যে হরিমণ-৯৯ জাতের গাছে আপেল ফলেছে। আগ্রহী লোকজন আসছে তা দেখতে।
ফলগাছের পাশাপাশি উঠোনের একপাশে রয়েছে হিজল, বকুল, শিমুল, ছাতিম, তেঁতুল, বটগাছ ও ফুলগাছ। এসবের রয়েছে অন্য গাছও।
কয়েক শ বনসাই রয়েছে তার সংগ্রহে। প্রতিবেশী ও অতিথি গেলে এসব বিষমুক্ত ফল দিয়ে আপ্যায়ন করেন তাদের।
পংকজ জানান, কয়েক বছরের টানা চেষ্টার পর এবার তিনি আপেল গাছে ফলন ফলাতে সফল হয়েছেন। কৃষি পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকে গাছ ভালোবাসেন। তাই গাছের ভাবভাষা হৃদয়ে অনুভব করেন। সেই অনুভব থেকে গাছের পরিচর্যা করেন। তিনি জানান, বরেন্দ্র বনসাই সোসাইটি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকে তার কাছ থেকে বনসাই ও অন্যান্য গাছ কিনতে শুরু করেছেন।
পংকজ বলেন, নিজের লাগানো গাছ থেকে বিষমুক্ত ফল থেকে পুষ্টি ও অক্সিজেন- দুটোই পাওয়া যায়। প্রত্যেকের বাড়ির আঙিনায় এমন ফলজ গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে উপকার পাওয়া যাবে।
পংকজ জানান, তিনি চিতলমারী সদর বাজারে কাঠের আসবাবপত্রের ব্যবসা করেন। স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে সংসার তার। প্রতিদিন অবসর সময় পার করেন গাছের পরিচর্যায়। তার লেখা একাধিক উপন্যাস, কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। সমাজে তিনি লেখক ও সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী বাবলু মণ্ডল জানান, আপেল গাছে ফলন চেষ্টায় সফল পংকজের বাড়ির আঙিনার গাছের সমারোহ এলাকায় সাড়া ফেলেছে। তিনি একটি আদর্শ পরিবারের উদাহরণ হতে পারেন। প্রত্যেক বাড়িতে এটা হলে নিজেদের বিষমুক্ত ফলের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ এ বিষয়ে বলেন, সামান্য জায়গায় পংকজ যেসব ফল ও ফুলের গাছ লাগিয়েছেন, তা দেখার মতো। তাকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও নানা ধরণের সহায়তা দেওয়া হয়। তাকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে অন্যরাও বাড়ির আঙিনায় বাগান করতে পারেন।
