ইরানে আমরা শান্তিপূর্ণ বা অন্যভাবে জিতব, চীনের সহায়তার প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আসন্ন চীন সফরে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করবেন, তবে এ বিষয়ে তার শি-এর সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

মঙ্গলবার (১২ মে) ট্রাম্প বলেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাদের দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনে ইরান বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

তবে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই, কারণ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধটি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, শি-র সঙ্গে তার আলোচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

‘আমার মনে হয় না ইরানের ব্যাপারে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে। আমরা যেকোনো উপায়েই জিতব, শান্তিপূর্ণভাবে হোক বা অন্যভাবে,’ মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন।

বিশ্বের বৃহত্তম দুটি অর্থনীতির নেতারা ছয় মাসেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসবেন। বাণিজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এবং অন্যান্য মতবিরোধের কারণে সৃষ্ট চাপের মুখে থাকা সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার চেষ্টাই এর উদ্দেশ্য।

ইরানের সঙ্গে অমীমাংসিত যুদ্ধের মধ্যেই ট্রাম্প চীনে যাচ্ছেন, যেখানে যুদ্ধটি শেষ করার কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। বেইজিং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং দেশটির তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান ভোক্তাও চীন।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন যে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই, তবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকায় তিনি স্বীকার করেছেন, শি-র সঙ্গে তার আলোচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

‘আমরা এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করব। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় তিনি তুলনামূলকভাবে ভালোই। অবরোধের দিকে তাকালে দেখবেন, কোনো সমস্যা নেই। তারা ওই এলাকা থেকে তাদের তেলের একটি বড় অংশ পায়। আমাদের কোনো সমস্যা ছিল না এতে। এছাড়া তিনি আমার বন্ধু,’ সাংবাদিকদের ট্রাম্প আরও বলেন।

এদিকে, উইন্ডওয়ার্ড মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, চীন এখন পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম ক্রেতা, যা ইরানের মোট তেল বিক্রির ৯০ শতাংশ।

এছাড়া ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রকাশ্যে অমান্য করতে বেইজিংয়ের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। এই মাসের শুরুতে, ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগে পাঁচটি চীনা তেল শোধনাগারের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার জন্য চীন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের বিষয়ে শি জিনপিংয়ের হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন আছে কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে এর কোনো প্রয়োজন নেই।

Read Previous

হামে শিশু মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Read Next

এক সময় দাড়ি রাখা ও টুপি পরাকেও সন্দেহের চোখে দেখা হতো : তথ্যমন্ত্রী

Most Popular