সামর্থ্যবান মুসলমানের উপর কোরবানি করা ওয়াজিব। এটি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক মহান ইবাদত। তাই পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই ও গোশত বণ্টন পর্যন্ত প্রতিটি কাজ হওয়া উচিত পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী।
মহান আল্লাহ বাহ্যিক চাকচিক্য নয়; মুমিনের আল্লাহভীতি ও আন্তরিকতাকেই মূল্য দেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)
নিচে কোরআন ও হাদিসের আলোকে পশু কেনা থেকে কোরবানি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হলো–
তাকওয়ার নিয়ত করা
কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া লাভ করা। তাই কোরবানি হতে হবে– একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। লোক দেখানো কোরবানি থেকে বিরত থাকতে হবে।
পশুর প্রতি সদয় আচরণ করা
ইসলাম প্রাণীর প্রতিও দয়া করতে শিক্ষা দেয়। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর ইহসান (সদাচার) আবশ্যক করেছেন। (মুসলিম)
প্রত্যেকের জন্য করণীয় হলো–
১. পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দেয়া
২. মারধর না করা
৩. কষ্ট না দেয়া
৪. দীর্ঘসময় বেঁধে রেখে কষ্ট না দেয়া
৫. প্রচণ্ড রোদ বা ভারী বৃষ্টিতে না ভেজানো
৬. পরিষ্কার ও আরামদায়ক স্থানে রাখা
৭. এক পশুর সামনে আরেক পশু জবাই না করা
জিলহজের প্রথম দশকে আমল করা
জিলহজের প্রথম দশক অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন জিলহজের দশক শুরু হবে এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করবে, তখন সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে। (মুসলিম)
মহান আল্লাহ বলেন,
তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাউসার, আয়াত: ০২)
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ঈদের নামাজের আগে জবাই করল, তা শুধু গোশত; কোরবানি নয়। (বুখারি)
পশু কোরবানি করতে হবে, ঈদের নামাজের পর ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
জবাইয়ের সুন্নাহ পদ্ধতি হলো- পশুকে কিবলামুখী করে শোয়ানো উত্তম। ধারালো ছুরি ব্যবহার করা। দোয়া পড়া,
بِسْمِ اللهِ، اللهُ أَكْبَرُ
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা ছুরি ধারালো করো এবং পশুকে আরাম দাও। (মুসলিম)
