চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে থাকা প্রায় ৫৪ কিলোমিটার তারবিহীন দুর্গম সীমান্তের নদীপথে দফায় দফায় পুশইনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য ও সহযোগিতায় এসব পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাতেও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিষণ সীমান্তের ভারতীয় ভূখণ্ডে কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের জন্য জড়ো করে বিএসএফ। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির টহল তৎপরতা টের পেয়ে পরে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
এর আগে গত ৪ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি ও রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ১১ দিনের ব্যবধানে তিন দফায় ৪৪ শিশু, নারী ও পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। প্রতিবারই স্থানীয়দের দেয়া তথ্য ও সহযোগিতায় ভারতের অভ্যন্তরে তাদের ফেরত পাঠায় বিজিবি। তারবিহীন নদীপথে দুর্গম সীমান্ত হওয়ায় এসব পুশইনের চেষ্টা বারবার করা হচ্ছে বলে জানায় বিজিবি ও স্থানীয়রা।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে কঠোর নজরদারি, সতর্কতা, টহল ও তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। জনবল বাড়ানো হয়েছে তিনটি ব্যাটালিয়নে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। নদী ও বিলে নৌকা এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে টহল ও নজরদারি চালাচ্ছে বিজিবি। রাতের অন্ধকারে নাইট ভিশন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়রা তাকে আটকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে তাকে আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী রোকনপুর গ্রামের ৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেয় বিজিবি। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।
এর আগে ১৩ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একই সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্তসংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ওই দলে ছিলেন দুইজন পুরুষ, আটজন নারী ও পাঁচ শিশু।
এছাড়া ৪ জুন ভোররাতে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী-পুরুষকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির বাধার মুখে তারা তিন দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করার পর আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায় বিএসএফ। ওই দলে ছিলেন ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশু।
