রংপুর মহানগরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানার কামাল কাছনা চিরারমিল এলাকার ফেরদৌস আলমের ছেলে তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার মোবারক আলীর ছেলে বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জের তালুক দামোদরপুর এলাকার ইমদাদুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান (৩৪), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের তেলীপাড়া এলাকার রিয়াজুল ইসলামের ছেলে হাফিজ আল মামুন (২০) ও আশরাফুল ইসলাম (৩৬)।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রংপুর মহানগর ডিবি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে ধাপ জেল রোড এলাকার আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের একটি ভবনের নিচতলায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি কক্ষে অবস্থানরত ছয়জনকে আটক করা হয়।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সাম্প্রতিক পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানে তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ৮টি স্বাক্ষরিত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্ল্যাংক চেক, ৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ৪টি মূল সার্টিফিকেট এবং ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সাপ্লাই ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে। চক্রটি প্রার্থীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প, চেক ও অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারণা করত বলেও জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত আছে।
গ্রেফতারদের মধ্যে চারজনের বাড়ি রংপুরে এবং দুইজনের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। এদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, যিনি পূর্বেও একই অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে ৫২ দিন কারাভোগ করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আরেকজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেও বেকারত্বের কারণে চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন।
