সরবরাহে শঙ্কা, বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে জ্বালানি তেলের দাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করার পর মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ২৭ ডলার বা ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৯১ ডলার বা ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। উভয় বেঞ্চমার্কই ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির অনুমোদনসংক্রান্ত সাধারণ লাইসেন্স প্রত্যাহার করার পর মঙ্গলবারও উভয় বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

বুধবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এখন ‘শেষ হয়ে গেছে’ এবং তিনি তেহরানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় যেতে চান না।

গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তিতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর চুক্তিটি চাপের মুখে পড়ে।

স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বাজার আবারও এই আশঙ্কা বিবেচনায় নিচ্ছে যে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন হামলা বা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের আরও অবনতি হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পর ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানায়, বুধবার ভোরে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

এসব ঘটনার পর আবারও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।

এদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের তিন মাসের টাইমস্প্রেড বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৬ জুনের পর সর্বোচ্চ। এর ফলে বাজার আবার ব্যাকওয়ার্ডেশনে ফিরে গেছে, যা কিছুদিন আগেও কন্ট্যাঙ্গোতে ছিল।

ব্যাকওয়ার্ডেশন এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে তাৎক্ষণিক সরবরাহের তেলের দাম ভবিষ্যৎ সরবরাহের তেলের চেয়ে বেশি থাকে। সাধারণত এটি স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আবারও বাড়ছে
এমএসটি মার্কির গবেষণা প্রধান সাউক কাভোনিভ বলেন, ট্রাম্পের এমওইউ শেষ হয়ে যাওয়ার মন্তব্য হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অন্তত চারটি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের পরিকল্পনা থেকে ফিরে গেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তখন অনেক বিনিয়োগকারী দাম আরও কমবে ধরে নিয়ে তেল ফিউচার বাজারে বড় আকারে শর্ট পজিশন নিয়েছিলেন।
সংঘাত শুরুর পর বিভিন্ন দেশ সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় নিজেদের মজুত থেকেও তেল ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রফতানি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ স্বাভাবিক হবে-এমন ধারণার ভিত্তিতে এইচএসবিসি ২০২৬ সালের জন্য ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামের পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলার থেকে কমিয়ে ৮০ ডলার করেছে।

এদিকে বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, চীন জুলাই মাসের বাকি সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি রফতানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। পাশাপাশি চার মাস বন্ধ থাকার পর একটি বেসরকারি শোধনাগারকে আবারও রফতানি কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Read Previous

স্থানীয় নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি

Read Next

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

Most Popular