ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচকে ইউরোপ তো বটে ফুটবলবিশ্বের অন্যতম সেরা দ্বৈরথ বলে গণ্য করা হয়। সাম্প্রতিককালে এই দ্বৈরথ আরও জমে উঠেছে। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্স-স্পেন দ্বৈরথের মাহাত্ম্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে দুই দলের পারফরম্যান্স। একদিকে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করা দল তো অপর দিকে সবচেয়ে কম গোল হজম করা দল।
কিলিয়ান এমবাপ্পে-ওসমান দেম্বেলে-মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের দুর্দান্ত আক্রমণভাগকে থামাতে পারবে এবারের বিশ্বকাপের টেকনিক্যালি সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল স্পেন? বেশিরভাগ বিশ্লেষকই অবশ্য মনে করেন, দূরন্ত ফর্মের ফ্রান্সকে কেউ থামাতে পারলে সেটি স্পেনই পারবে। ফুটবলবোদ্ধাদের ধারণা কতটা ঠিক তা আজই (১৪ জুলাই) জানা যাবে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পাওয়ারহাউজ ফ্রান্স ও স্পেন।
ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে নামার আগে অবশ্য স্পেনকেই ফেবারিট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দেশাম পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই দলটির ভারসাম্যের কথা তুলে ধরেন।
দেশম বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই বলছি, স্পেনই ফেবারিট। তারা আক্রমণ ও রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই অসাধারণ। সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে, যা তাদের শক্তির প্রমাণ।’
ফ্রান্স কোচ আরও জানান, স্পেনকে ফেবারিট বলার মাধ্যমে তিনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চাননি। বরং টুর্নামেন্টে তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিই দিয়েছেন।
তবে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও দেশম আশা করছেন, দুই আক্রমণাত্মক দলের লড়াইটি হবে দারুণ উপভোগ্য। তার মতে, উভয় দলই প্রথমে নিজেদের রক্ষণভাগকে সুসংগঠিত রাখার চেষ্টা করবে, এরপর আক্রমণভাগের মানই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
সেমিফাইনালের এই লড়াইয়ের আগে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় দেশামের কথাকে সত্য বলেই মেনে নিতে হয়। দুই দলের শেষ দুই দেখাতেই জয় পেয়েছে স্পেন। ২০২৪ এর ইউরোর নকআউট স্টেজের ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। এরপর গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও জয় পায় স্পেন। এবার লা রোহারা ৫-৪ ব্যবধানে হারায় লেস ব্লুদের।
