মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দণ্ডিত একজন আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলে না। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তব্য দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, দণ্ডিত একজন আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে কোনোভাবেই বিবেচ্য নয়। বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতায় কোনো ঘাটতি নেই।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ চলছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে এবং দ্রুতই একটি প্রগতিশীল অগ্রগতি সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়ে রদবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস ও রদবদল প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি একটি চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজন, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যোগ্যতা ও দেশের প্রতি ভালোবাসাই এখানে মূল বিবেচ্য বিষয়।
