শেরপুরের নকলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ২৯ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ৬টি গবাদিপশুকেও কামড় দেয় ওই কুকুর।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহতরা হলেন: উপজেলার বাজারদি এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ আলীর ছেলে রিয়াজ আহম্মেদ (২০), আব্দুর রহমানের ছেলে রায়ান (৫), খলিলুল রহমানের মেয়ে মীম (৫), কায়দা এলাকার আব্দুর রহিমের মেয়ে ঝিনুক (৯), লুৎফর রহমানের ছেলে সজিব (১৩), কুর্শা এলাকার মিরাজ উদ্দিনের ছেলে জিহাদসহ (৯) ২৯ জন।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই একটি পাগলা কুকুর পৌর শহরের গ্রিনরোড, দড়িপাড়া, উত্তর কায়দাসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে এদিক-সেদিক দৌড়াতে থাকে। কুকুরটি যাদের সামনে পেয়েছে তাদের কামড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, মাঠে চরতে থাকা গবাদিপশুকেও কামড়িয়েছে পাগলা কুকুরটি। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে।
এরমধ্যে ১৫ জন পৌর শহরের গ্রিনরোড ও দড়িপাড়া এলাকার এবং উত্তর কায়দা গ্রামের ১৪ জন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া যাদের ক্ষত বেশি ছিল তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়ে।
এদিকে, এ ঘটনার পর বিকেলেই কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে এলাকাবাসী।
নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আহতদের হাসপাতাল থেকে সাপ্লাইকৃত ভ্যাক্সিন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এর আগে একদিনে কুকুরের কামড়ে এতো রোগী হাসপাতালে আসেনি।’
তিনি আরও জানান, কুকুরের কামড়ের পর ক্ষতস্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে আসতে হবে।
এ বিষয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নকলা পৌরসভা থেকে সরবরাহ করা এআরভি (অ্যান্টি-রেবিস) ভ্যাকসিন হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে এবং আহত ব্যক্তিকে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে থেকে কোনো ওষুধ কিনতে হলে সেক্ষেত্রেও নকলা পৌরসভায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।’
