আয়ারল্যান্ড–ইসরায়েল ম্যাচ বাতিলে ‘স্টপ দ্য গেম’ আন্দোলন জোরদার

চলতি বছরের শেষ দিকে উয়েফা নেশনস লিগে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে ম্যাচগুলো বাতিলের দাবিতে কয়েক মাস ধরে জোরালো প্রচারণা চালিয়ে আসছেন আয়ারল্যান্ডের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীরা।

জুলাইয়ের শুরুতে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যার ফলে ম্যাচ দুটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের পথ তৈরি হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীদের মতে, কেবল ভেন্যু পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; তারা চান ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের ফুটবল ম্যাচই বাতিল করা হোক।

‘আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন’-এর প্রতিনিধি ও সাবেক আইরিশ আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল খেলোয়াড় রেবেকা ও’কিফ বলেন, আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ নেই। তার ভাষায়, ‘বাস্তবতা বদলায়নি। গাজায় যা ঘটছে, তা অব্যাহত রয়েছে। তাই আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।’

অন্যদিকে, এফএআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা উয়েফার সদস্য হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। তবে আইরিশ ফুটবলের তৃণমূল পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র মতবিরোধ রয়ে গেছে।

‘লিগ অব আয়ারল্যান্ড ফ্যানস ফর প্যালেস্টাইন’ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, দলগুলোর সফর ব্যাহত করতে বিমানবন্দর ঘেরাওসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বিবেচনায় রয়েছে। এফএআইয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সংগঠনটির সদস্যরা সংস্থার সভাপতি পল কুকের মুখোমুখি হন এবং পরদিন ডাবলিনে এফএআই সদর দপ্তরের ছাদে বিক্ষোভও করেন।

ইসরায়েলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে ডাবলিনে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের আরেকটি নেশনস লিগ ম্যাচ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের ধারণা, সেটিও প্রতিবাদের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

সংগঠনের সদস্য কেন পাওয়েল বলেন, ‘সমস্যা ভেন্যু নয়, সমস্যা প্রতিপক্ষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় শত শত ফুটবলার নিহত হয়েছেন। তাই আমাদের অবস্থান একই—ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ম্যাচ নয়, কোথাও নয়।’

তবে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধি স্টুয়ার্ট গিলহুলি বলেন, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা যদি প্রকাশ্যে অবস্থান না নেন, তাহলে ম্যাচ বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়।

শ্যামরক রোভার্সের খেলোয়াড় পিকো লোপেসের নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনটি বয়কটের আহ্বান জানালেও তারা মূলত ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করে; আন্তর্জাতিক দলে তাদের সদস্যসংখ্যা সীমিত।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ বি–৩-এ আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচ দুটি ২৭ সেপ্টেম্বর হাঙ্গেরি এবং ৪ অক্টোবর সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচগুলোকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। কারণ, ফিলিস্তিনের প্রতি ঐতিহাসিক সংহতির জন্য পরিচিত আয়ারল্যান্ড এখন ক্রীড়া, নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণের মুখোমুখি।

আইরিশ ফুটবলের প্রেক্ষাপট

গত নভেম্বরে হাঙ্গেরির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে ওঠে আয়ারল্যান্ড। কিন্তু মার্চে চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।

তবুও ঘরোয়া ফুটবল ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। নারীদের দলও বিশ্বকাপ প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে। তবে অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং অর্থায়নের ঘাটতি এখনও বড় বাধা।

এই আশাবাদের মধ্যেই নেশনস লিগের ড্রয়ে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে অস্ট্রিয়া, কসোভো ও ইসরায়েলকে একই গ্রুপে রাখা হয়। এরপরই এফএআই ঘোষণা দেয় যে তারা ইসরায়েলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচই খেলবে। যদিও এর আগে সংস্থাটি উয়েফার কাছে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব সমর্থন করেছিল।

এরপরই ‘স্টপ দ্য গেম’ প্রচারণা শুরু হয়। এতে আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন, আয়ারল্যান্ড লীগের বিভিন্ন ক্লাব ও সমর্থকগোষ্ঠী, ট্রেড ইউনিয়ন এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন যুক্ত হয়। তারা মামলাও দায়ের করেছে।

Read Previous

বৃষ্টির দিনে সুস্বাদু পদ- ক্রিসপি ফিশ স্ট্রিপস

Read Next

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আমলে নেওয়ার মতো অভিযোগ নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular