ঠান্ডা আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘুমের কারণ কী? যা বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান
শীতের মৌসুম এলেই অনেকেরই ঘুমের সময় বেড়ে যায়। সকালে উঠতে কষ্ট হয়, দিনের বেলাতেও তন্দ্রা আসে। সাধারণ মানুষের এই অভিজ্ঞতার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক ও শারীরবৃত্তীয় কারণ, বলছেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষের শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে। এই শক্তি ক্ষয় পূরণ করতে শরীর বেশি বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভব করে, যার অন্যতম প্রকাশ হলো অতিরিক্ত ঘুম।
ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রাশেদ বলেন,
“শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে শরীরে মেলাটোনিন নামক ঘুমের হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ঘুম বেশি আসে।”
তিনি আরও জানান, শীতকালে দিনের আলো কম থাকায় মানুষের সার্কাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ির ছন্দ কিছুটা ব্যাহত হয়। ফলে শরীর বারবার ঘুমের সংকেত দেয়।
এ ছাড়া ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষ সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম কম করে, ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটায় এবং ভারী খাবার গ্রহণের প্রবণতাও বাড়ে। এসব কারণও ঘুম বাড়াতে ভূমিকা রাখে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক জানান,
“শীতকালীন বিষণ্নতা বা ‘সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার (SAD)’-এর কারণে অনেকের মধ্যে ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।”
তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, শীতে ঘুম কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত ঘুম যদি দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তবে সেটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঘুম, অবসাদ বা মনোযোগের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত রোদে থাকা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো অভ্যাস বজায় রাখলে অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
