ভাইরাস কবলিত প্রমোদতরীকে নোঙর করতে দিতে চায় না ক্যানারি দ্বীপের বাসিন্দারা

হান্টাভাইরাস কবলিত বিলাসবহুল প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াসের স্পেনের দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারি আইল্যান্ডসে নোঙর করার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, জাহাজটি থেকে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জাহাজটি বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে দ্বীপ দেশ কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়ার উপকূলে নোঙর করা আছে। ১৭ জন আমেরিকানসহ প্রায় ১৫০ জন যাত্রী জাহাজটিতে অবস্থান করছেন। বিলাসবহুল জাহাজটি গত মাসে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম কয়েকটি দ্বীপে যাত্রাবিরতি করে।

কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজটিতে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিকসহ তিনজন মারা যান। হান্টাভাইরাস একটি বিরল রোগ, যা সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মূত্র, মল বা লালার সংস্পর্শে হয়ে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটি জাহাজের যাত্রীদের একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে থাকতে পারে। সংস্থার মহামারি প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধ বিষয়ক বিভাগের পরিচালক ড. মারিয়া ভ্যান কারখোভ মঙ্গলবার (৫ মে) সাংবাদিকদের বলেন,
আমরা জানি যে কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্তদের একে অপরের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ছিল এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা এটাই ধরে নিচ্ছি।

এর মধ্যে জাহাজটির স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে নোঙর করার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বীপপুঞ্জের নেতা ফার্নান্দো ক্লাভিহো আজ বুধবার (৬ মে) বলেছেন, তিনি দ্বীপটিতে জাহাজটির নোঙর করার বিরুদ্ধে এবং এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্পেনের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম টিভিই জানিয়েছে, দ্বীপপুএঞ্জর নেতার অবস্থান স্পেন সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সানচেজ সরকার বলেছে, জাহাজটিকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দ্বীপ তেনেরিফে নোঙর করার অনুমতি দেয়া হবে।

বিরোধীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টির সদস্য ক্লাভিহো স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ওন্দা জিরোকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য বা কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই।’

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু না জেনে-শুনে আমি তাদের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করতে দিতে পারি না, কারণ আমরা জানি না আমরা কীসের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি।’

Read Previous

পাহাড়ি ‘রক্ত ফল’ নিয়ে হঠাৎ কেন এত হইচই? খেলে কী ঘটে শরীরে?

Read Next

পশ্চিমবঙ্গ সরকারে মমতা-নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের অফিসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

Most Popular