সৈয়দপুর রেলকারখানায় ১২৭ কোচ মেরামত, ব্যবহার ঈদযাত্রায়

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় বেড়েছে ব্যস্ততা। বাড়তি চাপ সামাল দিতে সেখানে ১২৭টি কোচ মেরামত ও সচল করার কাজ চলছে। মেরামত শেষে এসব কোচ দেশের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। তবে ইতোমধ্যে ঈদযাত্রায় হস্তান্তর করা হয়েছে ১০৩টি কোচ।

জানা যায়, সব মিলিয়ে ঈদ উপলক্ষে মোট ১২৭টি কোচ রেল বহরে যুক্ত করা হচ্ছে। এসব কোচ দিয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে দুটি ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে বাড়তি কোচ সংযোজন করা হবে। এই লক্ষ্য পূরণে রেল কারখানায় কর্মমুখর হয়ে উঠেছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা কোচ মেরামতে দৈনিক কর্মঘণ্টা শেষে অতিরিক্ত কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ঈদযাত্রায় হস্তান্তর করা হয়েছে ১০৩টি কোচ।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মঞ্জুরি দুই হাজার ৮৫৯ জন লোকবল থাকলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭০৭ জন শ্রমিক-কর্মচারী। নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় মাত্র ২৫ শতাংশ জনবল উৎপাদনে রয়েছে কারখানাটিতে। আসন্ন ঈদে যাত্রীর চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কোচ মেরামত করার কর্মযজ্ঞ চলছে। কারখানার ক্যারেজ, বগি, হেভি রিপেয়ারিং সপ, ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন ও পেইন্ট সপে অচল পুরাতন কোচের মেরামত কাজ চলছে। এসব সপে কোচের জরাজীর্ণ কাঠামো পরিবর্তন, চাকার ট্রলি মেরামত, নতুন আসন স্থাপন ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ করা হচ্ছে। সবশেষে রঙকরণের কাজ চলছে।

কারখানা ক্যারেজ সপের ইনচার্জ প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম জানান, ঈদে কারখানার ডিএস মোস্তফা জাকির হাসানের তত্ত্বাবধানে জনবল সংকটের মুখে ১০ জনের কাজ করছেন দুই শ্রমিক। ঈদকে সামনে রেখে ১২০টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৯০টি ব্রডগেজ (বিজি) ও ৩০টি মিটার গেজ (এমজি) রেলপথের কোচ।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ৩০টি কোচ নিয়মিত কাজের অধীন মেরামত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মেরামত করা ৭০টি বিজি ও ১৮টি এমজি কোচ এবং নিয়মিত কাজে ৩০টি কোচের মধ্যে ২৮টি কোচ পাকশী ও লালমনিরহাট ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট কোচগুলো পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।

এ বিষয়ে কারখানার সিডিউল সপের ইনচার্জ প্রকৌশলী রুহুল আমীন জানান, ঈদে ট্রেন বহরে অধিক যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত কাজের বাইরে ১২৭টি কোচ সচল করা হচ্ছে। জরাজীর্ণ কোচগুলোকে নতুন কোচে রূপান্তর করা হচ্ছে। নানামুখী সংকট থাকলেও অগ্রাধিকার দিয়ে ঈদের বাড়তি কোচ সরবরাহের কাজ করছি আমরা।

কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা বলেন, ‘মালামাল ও লোকের সংকট থাকলেও ঈদে যাত্রী সেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়েছে। আমরা অতিরিক্ত শ্রম দিয়ে কয়েক গুণ বেশি কাজ করছি কোচ মেরামতের লক্ষ্য পূরণে। যাতে ঈদযাত্রায় অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে পারে রেলওয়ে।’

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সূফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘ঈদে রাজধানী ঢাকা থেকে পশ্চিমাঞ্চলগামী যাত্রীরা যাতে নিরাপদে গন্তব্যে ফিরতে পারেন সেজন্য প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও পার্বতীপুর-জয়দেবপুর ও খুলনা-জয়দেবপুর রুটে দুই জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ; যা ঈদের আগে ও পরে চলাচল করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১০৩টি কোচ পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। বাকিগুলো আগামী কয়েক কমদিবসের মধ্যে হস্তান্তর কর হবে’

Read Previous

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত

Read Next

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় খুন গায়িকা!

Most Popular